পছন্দের মেকআপ আর চোখে-মুখে উৎসবের ঝলক। ঠাকুর দেখতে বেরনোর আগে সাজের প্রতিটি ধাপেই যত্ন নিচ্ছেন, অথচ সেই ব্যস্ততায় বাদ পড়ে যায় সানস্ক্রিন! পুজোর ক’টা দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তায় ঘোরা, রোদে ঘুরে ঠাকুর দেখা, ভিড়ের মধ্যে ঘেমে যাওয়া, বারবার মেকআপ ঠিক করা, সব মিলিয়ে ত্বকের উপর চাপ কম নয়।
তার উপর ত্বকের যত্নে সামান্য ভুল থেকেও দেখা দিতে পারে শুষ্কতা, ব্রণ, জ্বালাভাব বা রোদে পোড়ার সমস্যা। তাই উৎসবের সাজে মজার পাশাপাশি ত্বকের সুরক্ষার দিকটিও মাথায় রাখা জরুরি।
আরও পড়ুন:
মেকআপ কি সানস্ক্রিনের বিকল্প?
অনেকেই মনে করেন, ফাউন্ডেশন, বিবি ক্রিম বা এসপিএফ-যুক্ত মেকআপ ব্যবহার করলেই আলাদা করে সানস্ক্রিন লাগানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। প্রসাধনীতে সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষার উপাদান থাকলেও, তাতে সুরক্ষা নাও মিলতে পারে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের অকালবার্ধক্য, বলিরেখা, কালো ছোপ এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই বাইরে বেরনোর আগে ব্রড-স্পেকট্রাম এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। এটি ইউভি এ এবং ইউভি বি, দু’ধরনের অতিবেগুনি রশ্মির বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দেয়। মুখের পাশাপাশি কান, গলা এবং পোশাকে ঢাকা নেই এমন অংশেও সানস্ক্রিন লাগানো প্রয়োজন।

সাজের কোন ধাপে সানস্ক্রিন?
ত্বকের যত্নে সঠিক ধাপ মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে মাইল্ড ক্লেনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগান। তার পর সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিন ত্বকে বসতে কিছুটা সময় দিয়ে তার উপর প্রাইমার ও মেকআপ লাগান। ফাউন্ডেশন লাগানোর সময় ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না। এতে সানস্ক্রিনের স্তর অসমান হয়ে যেতে পারে।
আর একটি ভুল অনেকেই করেন। সকালে একবার সানস্ক্রিন লাগিয়ে সারাদিন নিশ্চিন্ত থাকেন। অথচ দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে প্রায় দু’ঘণ্টা অন্তর আবার সানস্ক্রিন লাগানো প্রয়োজন। ঘাম হলে, মুখ মুছলে বা জল লাগলে তার পরেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। মেকআপের উপর সানস্ক্রিন লাগানো অসুবিধাজনক, তাই এসপিএফ-যুক্ত পাউডার বা স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। তবে এগুলি সানস্ক্রিনের বিকল্প নয়।
ঘাম, ধুলো আর ত্বকের অস্বস্তি
পুজোর ভিড়ে দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি করলে ঘাম ও ধুলোবালি ত্বকে জমতে পারে। তার সঙ্গে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে কারও কারও ক্ষেত্রে রোমকূপ বন্ধ হওয়া, ব্রণ বা জ্বালাভাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাড়ি ফিরে ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাইল্ড ক্লেনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা জরুরি।
তবে ত্বক পরিষ্কার করতে গিয়ে বারবার মুখ ধোয়া, স্ক্রাবার ব্যবহার করা বা জোরে ঘষাঘষি করাও ঠিক নয়। এতে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষত সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে নতুন প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্ক থাকা দরকার। কোনও পণ্য লাগানোর পর লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালা করলে সেটির ব্যবহার বন্ধ করুন। সমস্যা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রাতের যত্নেও ফাঁকি নয়
সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরে অনেকেই মেকআপ না তুলেই ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু ত্বকের যত্নে এই অভ্যাস এড়ানো জরুরি। রাতে ঘুমতে যাওয়ার আগে ভালো ভাবে মেকআপ তুলে মুখ পরিষ্কার করুন। তার পর ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। তৈলাক্ত ত্বক হলেও ময়েশ্চারাইজার পুরোপুরি বাদ দেওয়া উচিত নয়।
শুধু ঝলমলে রোদেই নয়, মেঘলা দিনেও অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই পুজোয় আকাশ মেঘলা থাকলেও বাইরে বেরনোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। পাশাপাশি ছাতা, টুপিও সঙ্গে রাখুন।
পুজোর সাজে নিখুঁত দেখানোর পাশাপাশি ত্বককে সুস্থ রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই মেকআপ ব্যাগে প্রিয় প্রসাধনীর সঙ্গে সানস্ক্রিন রাখতে ভুলবেন না। উৎসবের আনন্দে ত্বকের যত্ন যেন শেষ মুহূর্তের কাজ হয়ে না থাকে। নিয়ম মেনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে পুজোর সাজ যেমন সুন্দর থাকবে, তেমনই ত্বকের স্বাস্থ্যও থাকবে ভালো।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
