উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : পুরুলিয়ার বলরামপুর থানা এলাকায় এক তরুণীকে নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর দেহ বস্তায় ভরে অযোধ্যা পাহাড়ে ফেলার পথে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক তরুণ। ধৃতের নাম অমিতকুমার মাহাতো। শনিবার রাতে নাকা চেকিংয়ের সময় পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় ঘটনাটির পর্দাফাঁস হয়। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ বছরের ওই তরুণী বাঘমুণ্ডি থানার বাসিন্দা ছিলেন এবং পুরুলিয়া শহরে একটি মেসে থেকে নার্সিং পড়াশোনা করতেন। অন্যদিকে, চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া অভিযুক্ত অমিতও পুরুলিয়া শহরেরই একটি মেসে থাকতেন। দু’জনের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা একই কোচিংয়ে পড়াশোনা করতেন। সম্প্রতি প্রেমিকার অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে – এমন সন্দেহে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি বাধত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে মেস থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ওই তরুণী।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শনিবার রাতে ওই তরুণীকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে গিয়ে গলায় ধারালো অস্ত্রের কোপ বসিয়ে খুন করে অমিত। এরপর প্রমাণ লোপাট করতে মৃতদেহ একটি বস্তায় ভরে বাইকে চাপিয়ে অযোধ্যা পাহাড়ের দিকে যাচ্ছিল সে। বলরামপুর থানার বিদ্যুৎ দপ্তর অফিসের কাছে নাকা চেকিং চলাকালীন বাইক থামিয়ে তল্লাশি চালাতে গিয়ে বস্তা থেকে রক্ত চুঁইয়ে পড়তে দেখেন পুলিশকর্মীরা। বস্তা খুলতেই তরুণীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় অভিযুক্ত খুনের কথা স্বীকার করেছে। তরুণীর এক আত্মীয়ের দাবি, হাসপাতাল থেকে তাঁদের জানানো হয়েছে, খুনের আগে ধর্ষণ করা হয়েছে তরুণীকে। পরিবারের তরফে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

