উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বঙ্গে তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে জয়ী হয়েছে বিজেপি (BJP)। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফলাফল সামনে আসতেই ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ১০০টিরও বেশি আসনে কারচুপির অভিযোগ (Seats Stolen Allegation) তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে এবার সেই অভিযোগকেই মান্যতা দিলেন রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi)। কমিশনের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে তাঁর অভিযোগ, কমিশনের সাহায্য নিয়ে বাংলা ও অসমে ভোট চুরি করেছে বিজেপি। বঙ্গে ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই মমতাকে ফোনও করেছিলেন রাহুল।
সোমবার বিকেলে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্রের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল এজেন্টদের বের করে দেওয়ার খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘক্ষণ সেখানে থাকার পর বেরিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বলেন, ‘আমাকে মেরেছে। আমি প্রার্থী, অথচ আমাকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বিজেপি একটা দানবিক পার্টি। ওরা অন্তত ১০০টি আসন চুরি করেছে।’ উল্লেখ্য, গণনা শুরুর আগেই কারচুপির আশঙ্কা করে প্রার্থীদের স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেত্রী। কিন্তু সেই সাবধানবাণী সত্ত্বেও ফলাফলে ‘গেরুয়া ঝড়’ দেখা দিতেই সরব হয়েছেন তিনি।
মমতার এই অভিযোগের কিছুক্ষণের মধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধি। মমতার সঙ্গে সহমত পোষণ করে রাহুল লেখেন, ‘অসম ও বাংলায় নির্বাচন কমিশনের সমর্থনে বিজেপি ভোট চুরি করেছে তা স্পষ্ট। আমরা মমতাজির সঙ্গে একমত। বাংলায় শতাধিক আসন চুরি হয়েছে। একই ঘটনা আমরা দেখেছি মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও।’
নির্বাচনি ফলে তৃণমূল এবং ডিএমকে—ইন্ডিয়া জোটের এই দুই স্তম্ভের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জোট যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে না পড়ে, তার দায়িত্ব যেন নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন রাহুল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এমকে স্ট্যালিন—উভয়কেই ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিপর্যয়ের এই আবহে নিজেকে জোটের প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরে বিরোধী ঐক্য বজায় রাখাই এখন রাহুলের মূল লক্ষ্য।
