প্রিয়দর্শিনী বিশ্বাস, শিলিগুড়ি: প্রায় এক মাস স্টেশনে প্রবেশাধিকার না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের (এনজেপি) হকাররা (NJP Station Hawkers)। যদিও পুজোর আগে সেই ‘কড়াকড়ি’-তে আংশিক ছাড় মিলেছে। তবে রুটিরুজির অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে ‘পিএম স্বনিধি লোক কল্যাণ মেলা’র মাধ্যমে প্রাপ্ত ঋণই এখন এনজেপি-র হকারদের ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে (PM SVANidhi Mortgage)। বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে এই ঋণের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন হকার, পথবিক্রেতারা।
পিএম স্বনিধি প্রকল্পের আওতায় হকারদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রথমবার এক বছরের জন্য ১৫ হাজার টাকা ঋণ মেলে। সেই টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করলে পরবর্তী দেড় বছরের জন্য ২৫ হাজার এবং তিন বছরের জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়। ঋণ পুরোপুরি শোধ হলে ব্যাংকের তরফে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডের সুবিধাও দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় শিবির করে হকারদের এই ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্টেশনে হকারির পাশাপাশি এই ঋণের টাকায় বিকল্প ব্যবসার কথাও ভাবছেন অনেকে। ভোলা মোড়ের বাসিন্দা মহম্মদ রাজু যেমন চাইছেন ঋণের টাকায় স্ত্রীকে দিয়ে অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করাতে। তাঁর কথায়, ‘প্রথমবার যে টাকা মিলবে তা দিয়ে স্ত্রী কাপড়ের ব্যবসা করবে। পাশাপাশি আমি নিজের কাজ চালিয়ে যাব। যদি দেখি ব্যবসাটা ভালো চলছে, তাহলে আগামীতে তা আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
ট্রেনে ঘুরে খাবার বিক্রি করেন রজত রায়। তাঁর আশা, ঋণের টাকা পেলে পুজোর আগে বেশি করে ব্যবসার জিনিসপত্র তুলতে পারবেন। বেশি খাবার রাখতে পারলে বিক্রিও বাড়বে, ফলে পরিবারের মুখে সেই চেনা হাসিটুকুর দেখা মিলবে। অন্যদিকে, এনজেপি স্টেশনের অপর এক হকার অধীর কর্মকার এই টাকায় পুজোর মেলায় খাবারের দোকান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি বললেন, ‘এক বছরে ঋণের টাকা মিটিয়ে ২৫ হাজার টাকা ঋণ পেলে একটি ঠেলাগাড়ি কিনে রাস্তার ধারে ব্যবসা শুরু করতে চাই। তাতে হকারির এই অনিশ্চয়তা থেকে অন্তত মুক্তি মিলবে।’
তবে শুধু হকাররাই নন, এই ঋণের সাহায্যে ব্যবসার উন্নতি করতে চাইছেন পথবিক্রেতারাও। এনজেপি স্টেশন চত্বরে একটি ভাতের হোটেল চালান উত্তম অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, দোকান সুন্দর করে না সাজালে আজকাল খদ্দের আসতে চান না। ঋণের টাকা পেলে হোটেলটি নতুন করে সাজিয়ে তুলবেন। সব মিলিয়ে, রোজগারের অনিশ্চয়তার মাঝে ঘুরে দাঁড়ানোর এই ছোট ছোট স্বপ্নগুলোই এখন হকারদের বেঁচে থাকার মূল রসদ।

