উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সরকার প্রধান হিসেবে দীর্ঘ আড়াই দশকের রাজনৈতিক যাত্রার মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে নতুন উদ্দীপনা জোগাতে ‘উই উইল ডু ইট’ শিরোনামে এক নতুন আত্মবিশ্বাসী স্লোগান সামনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। বুধবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধি ইনডোর স্টেডিয়ামে (Indira Gandhi Indoor Stadium) আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে তিনি দেশের ভবিষ্যতের জন্য তিনটি বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেন, আর প্রতিবারই তাঁর এই আহ্বানে উপস্থিত জনতা সমস্বরে ধ্বনি তুলে সাড়া দেয়। ঠিক ২৫ বছর আগে এই দিনেই কেশুভাই প্যাটেলের উত্তরসূরি হিসেবে গুজরাটের (Gujarat) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নিয়েছিলেন তিনি। বিগত দিনগুলিতে রাজনৈতিক ও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়লেও, বর্তমান এই বিশেষ দিনটিকে দেশের সামনে এক নতুন সংকল্প গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই দিনে আমি প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবক এবং সহকর্মী কর্মীকে সশ্রদ্ধ সালাম জানাই। আজ কেবল স্মৃতির দিন নয়। আমাদের সংকল্পকে নতুন শক্তিতে ভরপুর করার দিন। যে প্রতিশ্রুতি ও অভিপ্রায় বলে, ‘আমরা এটা করতে পারব’, তা পুনরাবৃত্তি করার দিন আজ।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিরোধী আন্দোলন বা প্রতিবাদের মুখেই প্রধানমন্ত্রীর এই প্রাণোচ্ছ্বল ভাষণ দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, তাঁর রাজনৈতিক জীবনে যারা বিরোধিতা করেছেন, তাঁরাই তাঁকে প্রকৃত গণতন্ত্রের শক্তি অনুধাবন করতে শিখিয়েছেন। সমালোচকদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষাকে নিজের অন্তরের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, ২০০১ সালের ভয়াবহ ভুজ ভূমিকম্প তাঁকে পুনর্গঠনের সময় অবিচল থাকতে শিখিয়েছে, আর চন্দ্রযান মিশন তাঁকে ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পাঠ দিয়েছে। একই সঙ্গে করোনা মহামারী দেশের সম্মিলিত চেতনার গুরুত্ব বুঝিয়েছিল এবং তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতার মাঝে গণমাধ্যমও তাঁকে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ৩টি সুনির্দিষ্ট বড় লক্ষ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমত, ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করা, যা বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে এবং ২০১৪ সালে যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হন তখন তা দশম স্থানে ছিল। দ্বিতীয়ত, মহাকাশে মানুষের সফল পদার্পণ নিশ্চিত করা এবং তৃতীয়ত, ভারতে অলিম্পিক গেমস আয়োজন করা। জনতাকে নিজের ঈশ্বর জ্ঞান করে তিনি দেশের সেবায় দিনরাত আরও বেশি শক্তি নিয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ‘সেবা সংকল্প যাত্রা’র সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ ধামে জলাভিষেক এবং ভাদনগরের ঐতিহাসিক হটকেশ্বর মহাদেব মন্দিরে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এই ঐতিহাসিক দিনটি উদযাপনে শামিল হয়েছেন।

