উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ যুবভারতীতে লিওনেল মেসিকে (Messi) ঘিরে তৈরি হওয়া সেই বিতর্কিত অধ্যায় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas)। মেসি-কাণ্ডের তদন্তে এবার ফের তাঁকে তলব করল বিধাননগর (Bidhannagar) দক্ষিণ থানার পুলিশ। আগামী ৮ জুন, সোমবার তাকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ এর ঠিক দু’দিন আগেই আইনজীবী মারফত ১৪ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু পুলিশের এই দ্রুত নোটিস ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
সূত্রের খবর, যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসির অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরেই অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ, অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক অনিয়মের পেছনে প্রাক্তন মন্ত্রীর ভূমিকা ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানা। যদিও এই মামলায় আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অরূপ। আগামী ৯ জুন সেই জামিন মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক তার আগের দিন পুলিশের এই তলব আইনি লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।
যুবভারতীতে মেসি আসার আগে থেকেই টিকিট বিক্রির স্বচ্ছতা ও দর্শক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছিল। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখতে না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন দর্শকরা। সেই সময় তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ ওঠে। বিতর্কের দাবানল এতটাই তীব্র হয় যে, তাঁকে শেষ পর্যন্ত ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকেও সরতে হয়েছিল।
প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরে যেসব ধারা যুক্ত করা হয়েছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- তোলাবাজি (৩০৮/২): অসাধু উপায়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ।
- প্রতারণা (৩১৮/৪): দর্শকদের ঠকানোর অভিযোগ।
- অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (৬১/২): ঘটনার পেছনে কোনো বড় নীল নকশা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আগামী সোমবার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি প্রাক্তন মন্ত্রী দাঁড়ান কি না, অথবা আদালতের দ্বারস্থ হন কি না— সেইদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
