উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ মুম্বইয়ে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-এর একটি বিক্ষোভে বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ-এর অংশগ্রহণ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন অভিনেতা-লেখক পিযুষ মিশ্র (Piyush Mishra)। দীর্ঘদিনের সহকর্মী নাসিরুদ্দিনকে অন্যান্য সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুতেও একইভাবে মুখ খুলতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সিজিপি-এর এক বিক্ষোভে যোগ দেন নাসিরুদ্দিন শাহ। সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানায় দলটি। এই ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে নাসিরুদ্দিনকে সরাসরি বেশ কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন পিযুষ মিশ্র।
ভিডিওতে পিযুষ মিশ্র বলেন, “হ্যাঁ, নাসির সাহেব, আমার প্রণাম নেবেন। আমি পিযুষ মিশ্র, আপনাদেরই এক পুরনো পরিচিত।” এরপর তিনি ফ্লাইদুবাই বিমানের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “স্যার, সম্প্রতি ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে… ক্যাপ্টেন স্মিত মাছাড় তাঁর সাহসিকতার মাধ্যমে ১৮০টি প্রাণ বাঁচিয়েছেন। দয়া করে এই বিষয়েও একটি মন্তব্য করুন এবং তাঁকে অভিনন্দন জানান, স্যার।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে কো-পাইলটের আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ব্যাপক প্রশংসায় কুড়ান ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাছাড়। ককপিটে গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি দরজা খুলে দেওয়ায় কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন এবং নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করান।
এছাড়া লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির (LPU) ছাত্র আন্দোলনের সময়কার পুলিশি পদক্ষেপ এবং ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নাসিরুদ্দিনের পুরোনো মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পিযুষ মিশ্র। তিনি ঝাড়খণ্ডের মাটিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ঝাড়খণ্ডের সাহায্য চাওয়ার পর আপনি আমাকে এক পাকিস্তানি কবির কবিতা পাঠিয়েছিলেন। সেখানকার মানুষের তখন কবিতা দরকার ছিল না… তাদের দরকার ছিল আটা, ডাল, রুটি, গুড় আর লিট্টি-চোখা।” পিযুষ মিশ্রের এই ভিডিও বার্তার পর এখনও পর্যন্ত নাসিরুদ্দিন শাহ বা তাঁর কোনো প্রতিনিধির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের আন্দোলন জোরদার করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘোষণা করেছে দলটি। পাশাপাশি কলকাতা, ব্যাঙ্গালুরু এবং রাঁচির মতো বড় শহরগুলোতেও এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

