উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে (US-Iran Peace Deal)। আর কবে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, সেই দিনক্ষণও এবার জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শনিবার তিনি ঘোষণা করেছেন যে, রবিবারই এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে বিশ্বজুড়ে চলা জ্বালানি সংকট নিরসনে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও (Pakistan PM Shehbaz Sharif) এনিয়ে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও ইরানের তরফে এখনও কোনও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
তবে ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত থাকবে এবং এর মাধ্যমে একটি শক্ত ‘দেয়াল’ তৈরি হবে। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা ইরান এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার প্রত্যাশা করছি। আশা করি, এই পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত, সহজে এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। এই চুক্তি নিশ্চিত করবে যে ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। আসলে, তারা আর পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং তাদের কাছে এমন কোনও অস্ত্র থাকবেও না। তা কেনা, তৈরি করা বা অন্য কোনও উপায়ে সংগ্রহ, কোনওভাবেই নয়।’
ট্রাম্প আরও জানান, ওবামা আমলের মতো কোনও আর্থিক লেনদেন ছাড়াই এবার চুক্তিটি সম্পন্ন হবে। তবে তেহরান ট্রাম্পের এই তাড়াহুড়ো করা সময়রেখাকে সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও কোনও নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই শান্তি প্রচেষ্টায় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হয়। এর ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়। বর্তমানে প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখা এবং হরমুজ প্রণালীতে অবাধ জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবে।
এখন দেখার বিষয়, উভয় দেশ শেষ পর্যন্ত এই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না। বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে সেই মুহূর্তের দিকে, যখন ফের স্বাভাবিক হবে বৈশ্বিক সমুদ্র বাণিজ্য।
