রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পরিচারিকাকে ধর্ষণ চেষ্টার মতো ভয়াবহ অভিযোগ উঠল (Physician accused of rape try)। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মহম্মদ আবরার আলম। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নির্যাতিতা যুবতীর বয়স ২৫ বছর। তিনি শিক্ষিত পরিবারের সদস্য হলেও অভাবের তাড়নায় পাঁচ মাস ধরে উকিলপাড়ার বাসিন্দা ওই চিকিৎসক দম্পতির ফ্ল্যাটে পরিচারিকার কাজ করতেন। অভিযোগ, ওই চিকিৎসকের স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি পরিচারিকাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। যুবতী চিৎকার করলে অভিযুক্ত চিকিৎসক ভয় পেয়ে যান। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে নির্যাতিতা মঙ্গলবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু তাঁর ভাই দেখে ফেলায় কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
নির্যাতিতা জানিয়েছেন, কাজ করার সময় থেকেই ওই চিকিৎসক তাঁর সঙ্গে নোংরা অঙ্গভঙ্গি করতেন এবং হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে কুপ্রস্তাব দিতেন। যুবতীর কথায়, “আমি শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে, অভাবের কারণেই এই কাজ করতাম। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
যুবতীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে রায়গঞ্জ থানা। রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার ডঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। যুবতী তথ্য-প্রমাণ হিসেবে একাধিক নথি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী সে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই চিকিৎসকদের একাংশের এহেন আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে জনমানসে।

