পতিরাম: স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলো পতিরাম পথসাথী চত্বরে (Patiram Pathasathi Conflict)। বিগত এক বছরের আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসেব পেশ করা এবং সংঘের নির্বাচিত পদাধিকারীদের অবিলম্বে পদ থেকে সরানোর দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা ও হাতাহাতির উপক্রম হয়। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, তা সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী নামাতে হয়। এদিন সকালে কয়েকশো মহিলা পথসাথীর সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
পতিরামের যশোদা রানি সমবায় সংঘের বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই গোলমালের সূত্রপাত। অভিযোগ, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে সাধারণ সদস্যদের বহু বিষয় অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। এদিন সভায় উপস্থিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা গত এক বছরের সমস্ত আর্থিক হিসেব সকলের সামনে পেশ করার জোরালো দাবি তোলেন। কিন্তু হিসেব চাওয়া নিয়েই শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। অভিযোগ ওঠে, সংঘের নির্বাচিত ১৬ জন মহিলা পদাধিকারীকে একটি সাদা কাগজে সই করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন সই করলেও সভানেত্রী সাইদা বিবি, সম্পাদিকা লায়লা আর্জু এবং কোষাধ্যক্ষ টুকু দাস সই করতে অস্বীকার করেন।
এর পরেই ক্ষিপ্ত জনতা পদাধিকারীদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিক্ষিপ্ত ডিম গিয়ে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের গায়েও লাগে। পতিরামের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সভা বা সমাবেশে এমন ডিম ছুড়ে মারার নজির তৈরি হলো। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, অভিযুক্ত পদাধিকারীদের পদত্যাগের দাবিতে তাঁদের দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখা হয়।
সংঘের সম্পাদিকা লায়লা আর্জু সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, তাঁরা নিয়মমতো হিসেব পেশ করতে চাইলেও একটি নির্দিষ্ট মহল তা শুনতে বা দেখতে চায়নি। উল্টে তাঁকে জোর করে পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ক্ষোভ, “একটি নির্বাচিত বোর্ডকে গায়ের জোরে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।” তাঁকে টানাহ্যাঁচড়া করে নিগ্রহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করে তিনি জানান, সোমবার ডিআরডিসি (DRDC) অফিস এবং ব্লক প্রশাসনকে পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হবে।
অন্যদিকে, বিক্ষোভরত মহিলা পিউ ঘোষ কর্মকার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা শুধু হিসেব দেখতে চাই। ওরা কোনো হিসেব দেখাতে পারছে না। গত ১০-১২ বছর ধরে সাধারণ মহিলাদের কোনো কথাই শোনা হতো না।” সংঘের দৈনন্দিন কার্যকলাপে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে সমস্ত হিসেব প্রকাশ্যে আনার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
এদিকে এই অশান্তির মাঝে সকাল থেকেই পতিরাম পথসাথীর সামনে বেশ কয়েকজন স্থানীয় বিজেপি নেতাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ছোটন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সংঘের অধিকাংশ মামুষ বা মহিলাই বর্তমান পদাধিকারীদের আর দায়িত্বে দেখতে চান না এবং তাঁরা নতুন করে নির্বাচনের দাবি তুলছেন। তাঁর কটাক্ষ, “শুনলাম, তাঁরা হিসেবও দিতে পারছেন না। জনসাধারণের টাকার কোনো হিসেব থাকবে না, এটা তো হতে পারে না।” সব মিলিয়ে, দুই পক্ষের পালটাপালটি অভিযোগে রবিবার দীর্ঘক্ষণ ধরে পতিরামে চরম উত্তেজনা বজায় থাকে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালানো হয়।

