বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, পতিরাম: দিনের আলোয় ফুটবল মাঠ। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই মাঠের রাশ চলে যায় নেশাসক্তদের দখলে। মাসের পর মাস হাইমাস্ট লাইট না জ্বলায় অন্ধকার মাঠে বসছে একাধিক মদের আসর। সকালে ফুটবল খেলতে এসে খেলোয়াড়দের প্রথমে পরিষ্কার করতে হচ্ছে মাঠ। প্রায় দু’মাস আগে রাতের অন্ধকারে মাঠ থেকেই মাদক কেনাবেচার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল তিনজনকে। কিন্তু পতিরামের মাঠটির পরিস্থিতির যে বদল ঘটেনি, তার প্রমাণ মেলে মদের বোতল, গ্লাস এবং ভাঙা কাচের টুকরোয়।
বোল্লা (Bolla) গ্রাম পঞ্চায়েতের পতিরাম (Patiram) এলাকায় পতিরাম উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে কয়েক বছর আগে ধুমধাম করে বসানো হয় হাইমাস্ট টাওয়ার। কিন্তু প্রথম কয়েক মাসের পর থেকে উচ্চ বাতিস্তম্ভ থেকে আর আলো জ্বলছে না। স্থানীয়দের দাবি, হাইমাস্টের আলো শুধু মাঠ নয়, সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটিও আলোকিত করত। সন্ধ্যার পর শিশু-কিশোরদের খেলাধুলো, ফুটবল অনুশীলন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ওই আলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এখন সন্ধ্যা হলেই এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। ফলে পথচলতি মানুষের পাশাপাশি মহিলা ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু আলো নয়, মাঠের পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে এলাকায়। বর্তমানে বাতিগুলি কিছুটা নীচে নামানো অবস্থায় রয়েছে।
পতিরাম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ক্রীড়াশিক্ষক অসীম সরকার বলেন, ‘মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে আবর্জনা ও মদের ভাঙা বোতল পড়ে থাকে। ছাত্রদের নিয়ে প্র্যাকটিস করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই প্রায়ই আগে মাঠ পরিষ্কার করতে হয়, তারপর অনুশীলন শুরু করা যায়।’ স্থানীয় বাসিন্দা সুমনা সরকার বলেন, ‘বহুদিন ধরে হাইমাস্ট টাওয়ারের আলো বন্ধ। বারবার জানিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না।’ কেন আলো জ্বলছে না, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বোল্লা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গৌরী বর্মন। দ্রুত হাইমাস্টের আলো জ্বলে উঠুক, চাইছেন স্থানীয়রা। খেলার মাঠটি যাতে রাতের অন্ধকারে অসামাজিক কাজের আখড়া না হয়ে ওঠে, তা চাইছেন এলাকার প্রত্যেকেই।

