সামসী: বাংলার বাড়ি প্রকল্প থেকে নাম ছাঁটাইয়ের অভিযোগ। এনিয়ে বৃহস্পতিবার চাঁচল (Chanchal)-১ ব্লক দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন বঞ্চিত উপভোক্তারা। আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ তুলে দপ্তরের মূল ফটকের সামনে বসে এদিন বিক্ষোভ (Protest) দেখাতে থাকেন তাঁরা। বঞ্চিত উপভোক্তাদের অভিযোগ, সমীক্ষার সময় সরকারি কর্মীরা টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় বাংলার বাড়ি প্রকল্প থেকে নাম ছাঁটাই করা হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে কাটমানি তোলার অভিযোগে সিলমোহর দিয়েছেন খোদ শাসকদলের জনপ্রতিনিধি তথা চাঁচল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি জাকির হোসেনও। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের সমীক্ষা কোনো জনপ্রতিনিধি করেন না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি আধিকারিকরা করেন।’ তিনি জানান, প্রকল্পের সমীক্ষা করতে একজন উপভোক্তার বাড়ি কমপক্ষে পাঁচবার গিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা। কোনো আধিকারিক সমীক্ষা করে একই উপভোক্তার নাম রাখলেও অন্যদিন কোনো আধিকারিক গিয়ে তাঁর নাম বাতিল করে দেন।
উপভোক্তা কবিতা দাসের অভিযোগ, ‘প্রকল্পে প্রথমদিকে নাম ছিল। কিন্তু চার-পাঁচবার করে সমীক্ষা হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি।’ তাঁর দাবি, ‘এরকম অনেকেরই নাম বাদ পড়েছে চূড়ান্ত তালিকা থেকে। তিনি প্রকল্পের পাকা ঘর পাওয়ার যোগ্য।’ কবিতাদেবীর কথায়, ‘ভেবেছিলাম পাকা ঘরটি পেলে দুই মেয়েকে নিয়ে অন্তত ভালোই কাটবে। কিন্তু পাকা ঘর আর কপালে জুটলো না।’
আরেক উপভোক্তা সুবল দাসের অভিযোগ, ‘অন্যদের মতো আমারও চূড়ান্ত তালিকায় নাম নেই। সমীক্ষা করতে এসে কিছু সরকারি কর্মচারি কুড়ি হাজার টাকা চেয়েছিলেন পাকা ঘরের বিনিময়ে। কিন্তু গরিব মানুষ। খেটে খাই। কোথায় পাব কুড়ি হাজার টাকা? তাই দিতে পারিনি। তাই চূড়ান্ত তালিকা থেকে নামটি বাদ চলে গিয়েছে।’ এবিষয়ে চাঁচল-১ এর জয়েন্ট বিডিও মইদুল ইসলাম সাফ জানিয়েছেন, কোনো সরকারি কর্মচারি কোনোপ্রকার টাকা লেনদেনে জড়িত নয়। তবে প্রকৃত কোনো উপভোক্তার নাম বাদ পড়লে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
