Particular Abstract Revision | লক্ষ্য নতুন ও বাদ যাওয়া ভোটারদের নাম তোলা!  বাংলা সহ ১৭ রাজ্যে এবার এসএসআর ঘোষণা কমিশনের

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দেশের ভোটার তালিকা বিতর্কের আবহে এবার বড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন (Election Fee)। নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে এবং স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ে যাওয়া নামগুলি ফেরাতে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, বিহার ও তামিলনাড়ু সহ মোট ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্পেশাল সামারি রিভিশন (Particular Abstract Revision) বা এসএসআর চালুর ঘোষণা করেছে কমিশন। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারিকে যোগ্যতার তারিখ ধরে এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া চালানো হবে। আগামী ১২ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা (electoral rolls) প্রকাশিত হবে এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ এবং পঞ্জাবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিগত কিছুদিন ধরেই তীব্র রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা যাচ্ছিল। বিশেষ করে এসআইআর চলাকালীন ফর্ম ৬-এর সঙ্গে আবেদনকারীদের যে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র জমা দিতে হচ্ছিল, তা নিয়েই তৈরি হয় প্রধান রাজনৈতিক বিতর্ক। ওই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রে আবেদনকারীদের প্রায় ২০ বছর আগে অনুষ্ঠিত শেষ এসআইআর তালিকার সঙ্গে তাদের বাবা-মায়ের নামের তথ্য মেলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই নিয়ম ঘিরেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী দলগুলি। বিরোধী ইন্ডিয়া জোট এবং ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি নেতাকর্মীরা রাজধানীতে লাগাতার বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার কমিশনের জারি করা নির্দেশিকায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজ্যগুলির আধিকারিকদের কাছে পাঠানো সেই নির্দেশিকাটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বাদ পড়া, তরুণ ও প্রথমবার যোগ্য হওয়া ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য বিশেষ অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছিল। এই তালিকায় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, আসাম, বিহার, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরালা, লক্ষদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, পুদুচেরি, পঞ্জাব, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে এবং এই আদেশে অতিরিক্ত এসআইআর ঘোষণাপত্র সম্পর্কে কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি। এর আগে গত ৭ অক্টোবরের স্পষ্টীকরণে কমিশন জানিয়েছিল যে ওই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি কেবল সেই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্যই প্রযোজ্য যেখানে এসআইআর চলছে। অ-এসআইআর সময়ের জন্য ১৯৬০ সালের ভোটার রেজিস্ট্রেশন রুলস অনুযায়ী সাধারণ ফর্মগুলিই কার্যকর থাকবে।

ভুলভাবে নাম বাদ যাওয়া রুখতে নতুন নির্দেশিকায় একাধিক কড়া সুরক্ষাবলয়ের কথা বলা হয়েছে। যে সমস্ত ক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়ার হার মোট ভোটারের দুই শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে, সেখানে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও-দের নিজে হাতে তা ক্রস-ভেরিফাই করতে হবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি পাঁচটির বেশি ক্ষেত্রে আপত্তিকারী হন। কমিশন গত ৯ অক্টোবর এক চিঠিতে একজন ভোটার কতগুলি ফর্ম ৭ আবেদন জমা দিতে পারবেন তার একটি সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো পাইকারি হারে বা একসঙ্গে প্রচুর ফর্ম ৭ আবেদন জমা দেওয়ার প্রবণতা ঠেকানো। উল্লেখ্য, ফর্ম ৭-এর মাধ্যমেই মূলত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়।

নির্দিষ্ট নিয়মে বলা হয়েছে যে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত বা মৃত ভোটারদের নাম কেবল তখনই মুছে ফেলা যাবে যখন সংশ্লিষ্ট ফর্ম ৭ আবেদন হাতে পাওয়া যাবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কথা শুনে একটি স্পিকিং অর্ডার বা লিখিত নির্দেশ পাস করতে হবে ইআরও-কে এবং তা ইসিআইনেট পোর্টালে আপলোড করতে হবে। স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-রা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০টি ফর্ম কমিশনের বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র কাছে জমা দিতে পারবেন। যদি কোনও এজেন্ট দাবি পেশ করার সময়ের মধ্যে ৩০টির বেশি ফর্ম জমা দেন, তবে ইআরও-কে ব্যক্তিগতভাবে সেগুলির সত্যতা যাচাই করতে হবে। সমস্ত দাবি ও আপত্তির তালিকা সংশ্লিষ্ট মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং প্রতি সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলির হাতে তুলে দিতে হবে।

যে সমস্ত রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চলছে বা সবে শেষ হয়েছে, যেমন অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, চণ্ডীগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, এনসিটি দিল্লি, ওড়িশা, সিকিম, ত্রিপুরা এবং তেলেঙ্গানা, সেখানে এসএসআর বা সামারি রিভিশনের সময়সূচি পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে। এছাড়া হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ—এই তিনটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত এসআইআর শুরুই হয়নি, তাই সেখানকার আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপযুক্ত সময়ে তালিকা সংশোধনের সময়সূচি জানানো হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ যেমন বাড়ছে, তেমনই নির্বাচন কমিশনের এই নতুন সংশোধনী পদক্ষেপ আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *