উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ককোরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ১৬ অক্টোবরের বিক্ষোভ ঘিরে জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে (Delhi Police On CJP’s Protest) চড়ছে উত্তেজনার পারদ। দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হলেও, সাধারণ মানুষকে সেখানে জমায়েত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। প্রশাসনিক সুরক্ষার স্বার্থে পুলিশ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল পার্কে কোনো বড় জমায়েতের অনুমতি না দিয়ে কেবল মাত্র ১১ জনের একটি প্রতিনিধি দলকে জাতীয় পতাকা বহন ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন দিল্লি হাইকোর্ট এই বিক্ষোভ সম্পূর্ণ বন্ধ করার আর্জি খারিজ করে দিয়ে সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের ভার পুলিশের হাতে সপেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিতিন বাসুদেব সামব্রে ও বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার বেঞ্চে দায়ের হওয়া এক হকারের রিট পিটিশনের জবাবে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আশ্বাস দেন যে আইন মেনে শান্তি বজায় রাখতে সব রকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এর পরপরই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, কনট প্লেস ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। আদেশ অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। উপ-পুলিশ কমিশনার নেহা যাদব জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কারণে এনডিএমসি (NDMC) ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেখানে কোনো পার্কিং বা জমায়েত না করার অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি উৎসবের মরশুমে ব্যবসা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজার সমিতিও সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আবেদন করেছিল।
অন্যদিকে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় সেন্ট্রাল পার্কে তেরঙ্গা হাতে সাধারণ মানুষ জমায়েত হবেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা ১০০টি জায়গার কথা ঘোষণা করলে নরেন্দ্র মোদি কি ১০০টি জায়গাই বন্ধ করে দেবেন?’ বিরোধী রাজনৈতিক দল আম আদমি পার্টিও (AAP) এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধি থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়ালদের অতীতে আটকের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দীপকে অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সুরক্ষা দিতেই এই দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে। এমনকি যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে আইসা (AISA) কর্মী নেহা বোরার তরফে।
উল্লেখ্য, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টেও নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধিদের দায়ের করা আবেদনের শুনানি চলছে, যেখানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে দেন যে বিচার বিভাগকে ভয় দেখানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে কিন্তু প্রতিবাদের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

