উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ আসন্ন ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (FATF) প্লেনারি বৈঠকের ঠিক আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখে ধুলো দিতেই কি বড় পদক্ষেপ করল পাকিস্তান? পাকিস্তানের (Pakistan) ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (FIA)-র প্রকাশিত ২০২৬ সালের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীদের নতুন তালিকা বা ‘রেড বুক’-এ নাম রয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের (JeM) প্রধান মাসুদ আজহারের। শুধু তাই নয়, তার মাথার ওপর পুরস্কারের অর্থ ২০ লাখ রুপি বাড়িয়ে মোট ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি (PKR) করা হয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালে এফআইএ মাসুদ আজহারের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। পাশাপাশি, এতদিন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল যে মাসুদ আজহার দেশেই নেই এবং সে আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রয়েছে।
তবে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক তথ্য ও টেকনিক্যাল অ্যানালিসিস বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। গত ছয় মাসের গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মাসুদ আজহার আসলে দেশ ছেড়ে কোথাও যায়নি, সে বর্তমানে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের নওয়াবশাহ (Nawabshah) শহরেই লুকিয়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অক্টোবরে নির্ধারিত এফআইএএফ (FATF)-এর গুরুত্বপূর্ণ প্লেনারি বৈঠকের আগে বৈশ্বিক চাপ এড়াতে এবং পাকিস্তানকে ‘গ্রে লিস্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে এটি ইসলামাবাদের একটি লোক দেখানো কৌশল মাত্র। আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ভুয়ো বার্তা দিতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত পুলওয়ামা হামলা—যাতে ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন—সহ ভারতে ঘটা একাধিক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ওয়ান্টেড এই মাসুদ আজহার। আন্তর্জাতিকভাবে রাষ্ট্রসংঘের দ্বারা বিশ্ব সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরেও পাকিস্তানের মাটিতে তার সুরক্ষিত অবস্থান নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন তুলে আসছে ভারত।

