মিনি ডার্বিতে নাটকীয় ড্র ইস্টবেঙ্গলের, এগিয়েও আটকে গেল মোহনবাগান, লিগ জয়ের লড়াইয়ে সব দলই

রাজ্য/STATE
Spread the love


কলকাতা লিগে আজ ডবল হেডার। একদিকে সবুজ-মেরুন মাঠে মুখোমুখি হল মোহনবাগান বনাম ইউনাইটেড স্পোর্টস। একই সময় কল্যাণীতে মহামেডানের বিরুদ্ধে নামল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ম্যাচে কোল ইন্ডিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর ছিল মোহনবাগান। চ্যাম্পিয়নশিপের আগের ম্যাচে ইউনাইটেড স্পোর্টসের কাছে গোলশূন্য ড্র করার পর চ্যাম্পিয়নশিপে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জিততেই হত ইস্টবেঙ্গলকে। এমন একটা ম্যাচে লাল-হলুদের বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও ড্র করল মহামেডান। যদিও এমন ফলাফলে লিগ জয়ের আশা শেষ ইস্টবেঙ্গলের। অন্যদিকে, ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও আটকে গেল মোহনবাগান। দুই ম্যাচে এমন নাটকীয় ফলাফলের পর কলকাতা লিগ জয়ের লড়াইয়ে সব দলই। 

হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগা উইঙ্গার লিস্টন কোলাসোকে নিয়ে সাবধানী মোহনবাগান। সোমবার ঘরের মাঠে ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে তাঁকে ছাড়াই নামে সবুজ-মেরুন। লেফট উইংয়ে শুরু থেকে খেললেন অভিষেক সিং। আপুইয়াকে রিজার্ভ বেঞ্চে রেখেছিলেন বাস্তব রায়। অন্যদিকে, ডার্বিতে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের মনোতোষ মাঝি। আন্তঃরেল খেলা থাকায় এই ম্যাচে লাল-হলুদ পায়নি চাকু মান্ডি ও অঙ্কন ভট্টাচার্যকে। কার্ড সমস্যা মিটিয়ে ফিরছেন বিজয় মুর্মু।

আরও পড়ুন:

তবে ম্যাচে মোহনবাগান যতটা প্রাধান্য নিয়ে খেলেছে, ইস্টবেঙ্গল ততটাই নিষ্প্রভ ছিল। ৪ মিনিটে বাঁ-পায়ে শট নিয়েছিলেন সাহাল আবদুল সামাদ। ইউনাইটেড ফুটবলারদের পায়ে লাগায় গোল আসেনি। ২৩ মিনিটে এই সামাদের গোলেই এগিয়ে যেতে পারত সবুজ-মেরুন। সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন ২৯ বছরের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ২৮ মিনিটে দীপক টাংরির দূরপাল্লার শট দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচান ইউনাইটেড গোলকিপার সৌরভ সামন্ত। প্রথমার্ধে নিরঙ্কুশ প্রাধান্য নিয়ে খেললেও গোলের দেখা পায়নি মোহনবাগান। লালকমল ভৌমিকের ইউনাইটেড স্পোর্টসের রক্ষণ আঁটসাঁট ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুযোগ চলে এসেছিল মোহনবাগানের। সন্দীপ মালিকের ক্রস থেকে মনবীরের হেড বার উঁচিয়ে চলে যায়। ৫৫ মিনিটে এ হেন সন্দীপেরই দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট। তবে এই অর্ধে ইউনাইটেডও আক্রমণে উঠে আসে। ৬১ মিনিটে কিয়ানের থ্রু বল থেকে গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন মনবীর। তবে টার্ন নিতে গিয়ে ভারসাম্য হারান। ফলে গোলকিপারকে একা পেয়েও খালি হাতে ফিরতে হয় তাঁকে। এরপর একাধিকবার আক্রমণ শানালেও কিছুতেই ডেডলক ভাঙেনি মোহনবাগানের। ৮৯ মিনিটে প্রায় নব্বই ডিগ্রি ঘুরে শট নিয়েছিলেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁচান ইউনাইটেড গোলকিপার। পরের মিনিটেই সন্দীপ মালিকের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। 

অন্য ম্যাচের দিকে তাকালে সবার আগে যে কথাটি বলতে হয়, মহামেডান প্রথম ম্যাচে ভবানীপুরের বিরুদ্ধে ২-০ জিতে থাকায় তাদেরও লিগ জয়ের সম্ভাবনা ছিল। এই ব্যাপারটাই হয়তো উজ্জীবিত করেছিল সাদা-কালো ব্রিগেডকে। যদিও তারা এই ম্যাচে পায়নি ফারদিন মোল্লাকে। সোমবার বারাসত স্টেডিয়ামে ম্যাচটি থাকলেও পর্যাপ্ত পুলিশ না পাওয়ার জন্য ম্যাচটি সরিয়ে কল্যাণী স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। এমন একটা ম্যাচে প্রথম ১০ মিনিট আধিপত্য নিয়ে খেলে মহামেডান। এমন মুহূর্ত এসেছে, যেখান থেকে এগিয়ে যেতে পারত তারা। তবে ১৩ মিনিটে বিজয় মুর্মুর দূরপাল্লার শট রুখে দেন মহামেডান গোলকিপার নিখিল ডেকা। বাকি সময় বলার মতো কিছু হয়নি। দুই দলের আক্রমণে তেমন ধার ছিল না। তবে ৪০ মিনিটে মহামেডানের শট রুখে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার গৌরব সাউ। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে অনেকটাই ছন্দে ফেরে ইস্টবেঙ্গল। ৫৫ মিনিটে কর্নার থেকে গোল করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল লাল-হলুদের। তবে খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে লালথান কিমার গোলে ৬৯ মিনিটে এগিয়ে যায় মহামেডান। যদিও আকাশ হেমব্রমের শেষ মুহূর্তের  গোলে সমতায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল। বলা চলে, এই গোল ইস্টবেঙ্গলের লাইফলাইন। কারণ এই ম্যাচ হেরে গেলে স্বপ্নভঙ্গ হত লাল-হলুদের। ৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগের চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে শীর্ষে সাদা-কালো ব্রিগেড। ইউনাইটেডের সঙ্গে ড্র করে ৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্থানেই থাকল মোহনবাগান। টানা দুই ম্যাচ ড্র করে ইউনাইটেড স্পোর্টস ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়। দুই ম্যাচে ড্র করে ২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা শেষ। পয়েন্ট টেবিলের যা পরিস্থিতি মোহনবাগান-মহামেডান ম্যাচ হতে চলেছে সিএফএল ‘ফাইনাল’। সেই ম্যাচে ড্র বা জয় পেয়ে সাদা-কালো ব্রিগেডের ঘরে কলকাতা লিগ ঢুকবে। মোহনবাগানকের সামনে জয় ছাড়া কোনও বিকল্প নেই। 

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *