উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan coal mine blast) বালোচিস্তান প্রদেশে এক মর্মান্তিক খনি দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। কোয়েটার কাছে সোরাঞ্জ কয়লা ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় গোটা দেশকে শোকস্তব্ধ করে তুলেছে। অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ঘন মিথেন গ্যাস জমে থাকার ফলেই এই মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
প্রাদেশিক বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ বা পিডিএমএ (PDMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার শিফট পরিবর্তনের মুহূর্তে কয়লা খনিতে তীব্র মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় চার হাজার ফুট গভীরে সংঘটিত এই বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে ধস নামে। বিস্ফোরণের পরপরই খনির ভেতর বিধ্বংসী আগুন ধরে যায় এবং শ্রমিকরা জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকা পড়েন। এদিন সকাল পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে মোট ৩৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে এবং প্রায় ২২ জন আটকে পড়া শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। খনি পরিদর্শক মহম্মদ আতিফ জানিয়েছেন যে বিস্ফোরণস্থলের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী খনি থেকেও শ্রমিকদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
অল পাকিস্তান কোল মাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি পির মহম্মদ কাকাড় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য খনি মালিকদের চরম গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, গভীর ভূগর্ভে এ ধরনের বিস্ফোরণ ঘটলে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে যায়। বহু ক্ষেত্রে বেসরকারি খনি মালিকরা যথাযথ নিরাপত্তা নির্দেশিকা ও গ্যাস মনিটরিং সিস্টেম মানেন না। বালোচিস্তানের খনিজ মন্ত্রী শোয়েব নোশেরওয়ানি অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চলছে বলে জানিয়েছেন। নিহত প্রতিটি শ্রমিকের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ এবং আহতদের তিন লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও খনিগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বালোচিস্তানের (Balochistan) কয়লা খনিগুলিতে পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল ও সুরক্ষার অভাব থাকায় প্রায়ই এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

