উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বহুল আলোচিত ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার সময় গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বা আইবি কর্মী অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলার (IB employees homicide case) রায় ঘোষণা করল দিল্লির আদালত। শুক্রবার করকরডুমা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রবীণ সিং প্রাক্তন আম আদমি পার্টি বা আপ (AAP) কাউন্সিলার তাহির হুসেন সহ পাঁচজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি মাসের আগেই আদালত তাহির হুসেন এবং অন্য চার অভিযুক্তকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। তবে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও বিদ্রোহে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ থেকে তাহিরকে খালাস দেওয়া হয়। তাহির ছাড়াও এই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অপর চার অভিযুক্ত হলেন— জাভেদ, আনাস, নাজিম এবং কাসিম। যদিও বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া অপর ছয় অভিযুক্তকে প্রমাণের অভাবে খালাস দিয়েছে আদালত।
উল্লেখ্য, এই মামলায় তাহির হুসেনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের জোরালো আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত ওই ঘটনার পর নিহতের বাবা রবীন্দ্র কুমারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে দয়ালপুর থানায় এফআইআর রুজু করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পর অঙ্কিত শর্মা ফের কোনো কাজে বাইরে যান এবং রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর খোঁজাখুঁজির পর চাঁদবাগ পুলিয়া এলাকার একটি মসজিদ সংলগ্ন নিকাশিনালা থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে, যেখানে ধারালো অস্ত্র এবং ভারী বস্তুর আঘাতে নিহতের শরীরে মোট ৫১টি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল।
নিহতের বাবা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরাসরি তাহির হুসেন ও তাঁর সঙ্গীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ২৪ মার্চ আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করে। অবশেষে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য খতিয়ে দেখে আদালত এই সাজা ঘোষণা করল। এই রায় দিল্লি দাঙ্গার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হয়ে রইল।

