উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় (Khyber Pakhtunkhwa) আয়োজিত এক শান্তি মিছিলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Pakistan Blast) ঘটনা ঘটেছে। সূত্রের খবর, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে খাইবার পাখতুনখাওয়ার সোয়াত জেলার কাবাল (Kabal) শহরে। সেখানে স্থানীয় ট্রাইবাল কাউন্সিল ‘সোয়াত আমান জিরগা’ (Swat Aman Jirga)-র উদ্যোগে এক শান্তি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল।
সোয়াত উপত্যকায় সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তে থাকা উগ্রপন্থা ও অশান্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতেই এই শান্তি মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী প্রবীণ থেকে যুবক—সবাই হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ফুটেজে দেখা গেছে, শত শত মানুষের শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালীন হঠাৎ করেই এক বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চারপাশ। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় প্রচণ্ড আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। আকাশে উড়তে দেখা যায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। বিস্ফোরণের ধাক্কায় একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ধ্বংসাবশেষ।
এটি একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা (Suicide Assault) হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে এখনও বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
বিস্ফোরণের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ বাহিনী। তবে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠাতে সাহায্য করেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা কর্ডন করে ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হামলাকারীদের খোঁজে শুরু হয়েছে ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
উল্লেখ্য, আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে গত কয়েক বছর ধরেই উগ্রপন্থী ও জঙ্গি কার্যকলাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সেনাসদস্য, পুলিশ কর্মী তো বটেই, সাধারণ নাগরিকরাও প্রায়শই এই ধরনের বর্বরোচিত হামলার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে সোয়াত জেলায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ অবিন্যস্ত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।

