নাবালিকা মৃত্যুতে তথ্যপ্রমাণ লোপাট! অভিষেক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতাকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে ঘোরাল পুলিশ

নাবালিকা মৃত্যুতে তথ্যপ্রমাণ লোপাট! অভিষেক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতাকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে ঘোরাল পুলিশ

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


তৃণমূল সরকারের আমলে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হন অভিষেক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা তথা বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের তৎকালীন সভাপতি সুব্রত দত্ত ওরফে গোপে। রবিবার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ। এদিন ধৃত সুব্রতকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে বাজার ঘোরানো হয়। ঘটনার ভিডিওগ্রাফিও করে পুলিশ। হাফপ্যান্ট পরা সুব্রতকে নিয়ে যাওয়ার ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় জোর চর্চা।

গত মার্চ মাসে পাত্রসায়র এলাকায় এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে পাত্রসায়র স্টেশন পাড়ার বাসিন্দা রোহিত মল্লিক ও তার মা রুম্পা মল্লিকের বিরুদ্ধে। কিন্তু তৃণমূল আমলে মৃতার পরিবারকে থানায় অভিযোগ জানাতে দেওয়া হয়নি! শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্ত না করেই মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল! তৃণমূল নেতা সুব্রত ও তাঁর স্ত্রী পূরবী দত্ত প্রভাব খাটিয়ে সমস্ত ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সুব্রত সেই সময় বিষ্ণুপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ছিলেন। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট বলেও পরিচিত। এদিকে পূরবী দত্ত পাত্রসায়রের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। স্বামী-স্ত্রীর রাজনৈতিক প্রভাব থাকার কারণে বাধ্য হয়ে নাবালিকার পরিবার মুখবন্ধ রাখতে বাধ্য হয়!

আরও পড়ুন:

ওন্দা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থীও হয়েছিলেন সুব্রত। তাঁর হয়ে প্রচারও করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু ভোটে জিততে পারেননি তিনি। রাজ্যে পালাবদলের পরে ফের ওই নাবালিকার মৃত্যু নিয়ে শোরগোল ছড়ায়। চলতি মাসের শুরুতে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। গত ১১ জুলাই নতুন করে তদন্ত শুরু করে পাত্রসায়র থানার পুলিশ। তদন্তে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় অন্যতম অভিযুক্ত রোহিত মল্লিক ও রুম্পা মল্লিককে। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে গ্রেপ্তার হন পাত্রসায়রের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী দত্ত। পুলিশে অভিযোগ হওয়ার পর থেকেই পলাতক ছিলেন সুব্রত দত্ত। পুলিশ তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছিল। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। সেই সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

রবিবার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে বাঁকুড়ার পাত্রসায়র থানার পুলিশ। ধৃত তৃণমূল নেতা সুব্রত দত্তকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে এলাকা ঘোরানো হয়। প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পাত্রসায়র ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেই সময় তাঁর পরনে ছিল নীল রঙের একটি টি-শার্ট ও একটি হাফপ্যান্ট। রীতিমতো প্যারেড করিয়ে তাঁকে এলাকায় ঘোরায় পুলিশ।

রবিবারের ঘটনার পুনর্নির্মাণকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল। স্থানীয় ও রাজনৈতিক মহলের দাবি, নাবালিকা রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তের ভূমিকা খতিয়ে দেখতেই একাধিক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনও মুখে কুলুপ এঁটেছে। ফলে এই মামলায় আগামী দিনে আরও কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *