উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় উদ্বেগের ঘটনা সামনে এল পঞ্জাবে। ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগ উঠল (Pak Handlers Arrest)। শুধু নজরদারিই নয়, সেই ক্যামেরার ফুটেজ এবং সেনার গাড়ির যাতায়াতের তথ্য নিয়মিতভাবে পাকিস্তানে থাকা পাক হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বলজিৎ সিংহ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত বলজিৎ পঞ্জাবের পঠানকোট জেলার চক ধারিয়াল গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পঠানকোট-জম্মু সড়কের সুজনপুর এলাকায় একটি সেতুর কাছে অত্যন্ত কৌশলে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। ওই পথটি সেনার গাড়ির চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ, ওই পথ ধরে কখন সেনাবাহিনীর গাড়ি বা আধাসামরিক বাহিনীর গাড়ি যাচ্ছে— এই সমস্ত তথ্য ক্যামেরা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হতো পাকিস্তান বা অন্য দেশে বসে থাকা পাক হ্যান্ডলারদের কাছে। দেশের সামরিক কৌশলের গোপন তথ্য এভাবে শত্রুর হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাটি জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক দলজিন্দর সিংহ ধিঁলো জানিয়েছেন, তদন্তে উঠে এসেছে যে দুবাই থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ধৃত বলজিৎকে ৪০ হাজার টাকা দিয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনের বিনিময়েই চলত তথ্য পাচারের কাজ। ধৃতের কাছ থেকে একটি সিসি ক্যামেরা ও একটি ওয়াইফাই রাউটার উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে একটি বড়সড় দেশবিরোধী চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত পুলিশ। বলজিৎ ছাড়াও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনের নাম উঠে এসেছে— বিক্রমজিৎ সিংহ, বলবিন্দর সিংহ এবং তরণপ্রীত সিংহ ওরফে তন্নু। তাদের ধরতে পুলিশি তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। পঠানকোট-জম্মু সড়কে কিছুদিন ধরেই সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন তদন্তকারীরা, যার সূত্র ধরেই এই চক্রের হদিশ মেলে। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এই ধরণের নজরদারি এবং তথ্য পাচারের ঘটনায় নতুন করে উচ্চ-পর্যায়ের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
