উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET case) নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সরাসরি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। অথচ, একই সময়ে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র প্রধানের দাবি, প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষামন্ত্রীর স্বীকারোক্তি আর এনটিএ প্রধানের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে গোটা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও প্রকট হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন, গোটা প্রক্রিয়ায় ‘সংগঠিত চক্র’ ও ‘শিক্ষা মাফিয়া’দের সক্রিয়তা রয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ মানা সত্ত্বেও কমান্ড চেইনে ত্রুটি ছিল এবং তার দায় সরকার নিচ্ছে। সিবিআই (CBI Investigation) এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে বলে তিনি জানান। এরই মধ্যে পুণের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক পিভি কুলকর্নিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট যে, দুর্নীতির শিকড় প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই পৌঁছে গিয়েছে।
অভিযুক্ত অধ্যাপক গ্রেপ্তারের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এনটিএ-র ভেতর থেকেই প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছে? যদিও এনটিএ প্রধানের দাবি, ভেতর থেকে কোনো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। তদন্ত চলাকালীন এই ধরনের বয়ান অপরাধীদের আড়াল করার কৌশল কি না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন ওয়াকিবহাল মহল।
ইতিমধ্যে আগামী ৩ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দিন ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন, এভাবে বছর বছর প্রশ্ন ফাঁসের দায় কে নেবে? বারবার পরীক্ষা নেওয়া কি আদৌ কোনো স্থায়ী সমাধান? নিটের মতো কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতির মানসিক ও শারীরিক চাপের কথা মাথায় না রেখেই বারবার নতুন সূচি ঘোষণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিরোধীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন। প্রশ্নফাঁসের এই চক্র আসলে কতটা গভীর, কাদের হাত রয়েছে এর পেছনে এবং এনটিএ-র অন্দরের জট কবে কাটবে—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সাধারণ মানুষ।
