শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: গন্ধ অনুসরণ করে কখনও পৌঁছে গিয়েছে শিকারির ডেরায়, কখনও আবার বন্যপ্রাণীর দেহাংশ খুঁজে দিয়েছে। তদন্তে অন্ধকারে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পুলিশ পেয়েছে তার অনুসন্ধানী চোখের জন্য। এবার হোল্ডিং সেন্টার থেকে পালিয়ে যাওয়া এক রোহিঙ্গাকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও রবিবার সাফল্য পেল গরুমারার স্নিফার ডগ অরল্যান্ডো (Orlando Sniffer Canine)। তার সাফল্যের দীর্ঘ খতিয়ানে যথেষ্ট খুশি বন দপ্তর। কিন্তু এরপর? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বনকর্তাদের মনে। কারণ, কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে বেলজিয়ান ম্যালিনয় প্রজাতির এই স্নিফার ডগ। আগামী বছরই অবসর নেওয়ার কথা অরল্যান্ডোর। তার উত্তরসূরি হিসেবে দক্ষ স্নিফার ডগ পাওয়া যাবে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে বনকর্মীদের কাছে।
২০২০ সালে গরুমারার (Gorumara) নিরাপত্তার জন্য অরল্যান্ডোকে আনা হয়েছিল। সাড়ে সাত বছরের স্নিফার ডগ অরল্যান্ডো গরুমারায় পা রাখার পরই একের পর এক সাফল্য পেয়েছে বন দপ্তর। অরল্যান্ডোর গরুমারায় পা রাখার কিছুদিনের মধ্যেই ধূপঝোরা বিট এলাকায় একটি বাইসনের দেহ উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। দেহের বিভিন্ন অংশ কাটা ছিল। শিং সহ বেশ কিছু অংশ ছিল না। শিকারিরা বাইসনটিকে মেরে মাংস নিয়ে গিয়েছে বলে সন্দেহ হয় বনকর্মীদের। এরপর শিকারিদের খোঁজে নামানো হয় অরল্যান্ডোকে। গন্ধ শুঁকে মুহূর্তে কয়েক কিলোমিটার দূরের টিলাবাড়ি এলাকায় পৌঁছে যায় সে। সেখান থেকেই এক শিকারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় কাঁচা এবং রান্না করা বাইসনের মাংস।
গরুমারার বিভিন্ন নাকা তল্লাশির পাশাপাশি একাধিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে অরল্যান্ডো। শুধু বন দপ্তরের অভিযান নয়, পুলিশের তদন্তেও তার দক্ষতা কাজে লেগেছে। চলতি বছর মার্চে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানা এলাকায় এক বৃদ্ধার গলা কাটা দেহ উদ্ধারের পর তাঁর কাটা মুণ্ডের সন্ধানে অরল্যান্ডোর সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় সে। রবিবার ফের তার ডাক পড়ে। রাজগঞ্জ থানা এলাকার একটি হোল্ডিং সেন্টার থেকে এক রোহিঙ্গা পালিয়ে যাওয়ায়, তাকে খুঁজতে অরল্যান্ডোকে কাজে নামানো হয়। গন্ধের সূত্র ধরে শেষপর্যন্ত পালিয়ে যাওয়া ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে অরল্যান্ডো।
গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের এডিএফও রাজীব দে বলেন, ‘অরল্যান্ডো আমাদের কাছে আশার আলো। দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক কঠিন অভিযানে সে সাফল্য এনে দিয়েছে।’ দীর্ঘদিন ধরে অরল্যান্ডোর দেখভালের দায়িত্বে থাকা বনকর্মী প্রসেনজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘অন্যান্য স্নিফার ডগের তুলনায় অরল্যান্ডো অনেক সহজে কাজ করতে পারে। নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত সাড়া দেয়।’

