Cooch Behar | ঢাকের তালে চাপা থাকে দূরে থাকার আক্ষেপ: পুজোয় আপনজনদের ছেড়ে ভিনরাজ্যে জীবিকার টানে ঢাকিরা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: কাশফুল আর রঙিন কাপড় দিয়ে সাজানো ঢাক কাঁধে তুলে নিয়ে দয়াল কিন্নর যখন ঢাক বাজান, তখন উৎসবের আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুজোমণ্ডপ। ঢাকের তালে শরীরে শিহরণ জাগায় আগমনী সুর। দয়ালের সামনেই হাজার হাজার মানুষ আসেন প্রতিমা দেখতে। কেউ নিয়ে আসেন বাবা-মা, কেউ স্ত্রী, কেউ আবার সন্তানকে। দয়াল ঢাক বাজাতে বাজাতেই তাঁদের দেখেন। মুখে এক চিলতে হাসি রেখে ঢাক বাজাতে থাকেন। তখন বুকের ভিতরে হালকা একটি চিনচিনে ব্যথা অনুভব হয়। সেই ব্যথা পরিবার থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণার।

পুজোর (Durga Puja 2026) সময় যখন সবাই বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে ওঠে, তখন আপনজনদের ছেড়ে ভিনরাজ্যে গিয়ে ঢাকের বোল তোলেন দয়াল, জয়কান্তরা। তাঁদের পুজো শুরু হয় বিসর্জনের পর। কোচবিহারের (Cooch Behar) ঢাকিপাড়ায় এখন সেই প্রস্তুতিই চলছে।

কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, দেওয়ানহাট, ভেটাগুড়ি সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ঢাকিপাড়া রয়েছে। অন্যান্য জায়গায় ঢাকিরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলেও এই জায়গাগুলিতে একসঙ্গে অনেক ঢাকি পরিবারের বসবাস। ভেটাগুড়ির ঢাকিপাড়ায় প্রায় ৫০টি পরিবার এই পেশায় যুক্ত। তাঁদের মধ্যে ৩৫ জন এবার অসমের একটি বিগ বাজেটের পুজোয় ঢাক বাজাতে যাচ্ছেন। ওই ক’টাদিন পরিবারের মুখ দেখা বন্ধ। দয়াল বলছিলেন, ‘বছরের অন্য সময় কৃষিকাজ করি। পুজোর সময় ঢাক বাজাই। এই সময় একটি মোটা টাকা পারিশ্রমিক পাই। সবাই পুজোয় পরিবার নিয়ে ঘোরে। আমরা সেই সুযোগ পাই না। আমার তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের অন্যরা ওকে নিয়ে ঘুরবে। আমি অবশ্য দূরেই থাকব।’ পেশাদারিত্বের মাঝেও করুণ সুর জয়কান্তের গলায়। বললেন, ‘আমাদের পুজো শুরু হয় বিসর্জনের পর। পারিশ্রমিক পেয়ে সবার আগে পরিবারের নতুন পোশাক কিনে দিই। ওরা সেগুলি পরে পুজোয় ঘোরে। তারপর বিসর্জনের পর বাড়িতে ফিরে আসি। তখন ক’টাদিন পরিবারের সঙ্গে কাটাই। এটিই আমাদের পুজোর রুটিন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *