উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি ইন্দোনেশিয়া (Indonesia Earthquake)। শনিবার ভোরে দেশটির পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই ভূকম্পনের ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা রয়েছেন। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ উচ্চ ভূমির দিকে চলে যান।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউজিএসজি) এবং ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠের খুব কম গভীরে থাকা এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেস দ্বীপের উত্তর উপকূলে, এন্ডে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। প্রথম দফার এই শক্তিশালী কম্পনের পর ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী আফটারশক সহ বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপ্রাকৃতিক সংস্থা (বিএমকেজি) পূর্ব নুসা টেঙ্গারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি এবং পশ্চিম নুসা টেঙ্গারা প্রদেশে সুনামি আছড়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে। প্রায় ০.৫ মিটার থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু সুনামি ঢেউয়ের আশঙ্কায় উপকূলীয় অঞ্চলে দ্রুত সতর্কতা জারি করা হয়। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর কিছু সময় বাদেই সেই সুনামি সতর্কতা (Tsunami Warning) প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় হুড়োহুড়ি করে বাইরে বেরিয়ে আসেন রোগীরা।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই বড় ধরনের seismic exercise বা ভূকম্পন ঘটে থাকে। এর আগে ২০০৪ সালের সুমাত্রার ভয়াবহ ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ায় লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র পেতে এবং উদ্ধারকাজ চালাতে কাজ করছেন দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মীরা।

