ফালাকাটা: গ্রামের মানুষ ভেবেছিলেন জমিতে শাক বা ফুলের চাষ হয়েছে। কিন্তু সেই সবুজ পাতার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল বিষাক্ত মাদকের কারবার। রবিবার ফালাকাটার বংশীধরপুর গ্রামে এক বিশাল আফিম খেত (Opium Cultivation) ধংস করল পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন। দেড় বিঘা জমির এই অবৈধ চাষ নষ্ট করতে এদিন রীতিমতো ট্র্যাক্টর নামাতে হয় আধিকারিকদের।
বংশীধরপুর গ্রামে এর আগে কখনও আফিম চাষ হতে দেখেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে খোলা জমিতে যখন এই গাছ বাড়তে শুরু করে, অনেকেই ভেবেছিলেন সাধারণ কোনও শাক বা বিদেশি ফুলের চাষ হচ্ছে। কিন্তু গোপন সূত্রে এই খবর পৌঁছে যায় পুলিশের কাছে। খবর পাওয়ামাত্রই রবিবার অভিযানে নামে ফালাকাটা থানা।
এদিন আফিম খেত ধ্বংস করতে এলাকায় হাজির হন ফালাকাটা থানার আইসি (IC) প্রশান্ত বিশ্বাস, বিডিও (BDO) আদৃতা সমাদ্দার এবং ব্লক ভূমি ও কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা। প্রথমে জমিটি মাপজোক করা হয়। দেখা যায়, প্রায় দেড় বিঘা জমিতে রীতিমতো পরিকল্পনা করে আফিমের চাষ করা হয়েছে। এরপর ট্র্যাক্টর চালিয়ে পুরো খেতটি নষ্ট করে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, এই বেআইনি কারবারের সঙ্গে স্থানীয়দের পাশাপাশি কোচবিহার জেলার কোনও প্রভাবশালী চক্রের যোগ রয়েছে। এর আগে এই এলাকায় আফিম চাষ না হওয়ায় বাইরে থেকে কেউ এসে বীজ সরবরাহ বা চাষে প্ররোচনা দিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিডিও আদৃতা সমাদ্দার ও আইসি প্রশান্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই চাষ পুরোপুরি অবৈধ এবং আইনত অপরাধ। এই জমির মালিক কে এবং কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। জনসমক্ষে এই আফিম খেত ধ্বংসের ঘটনায় গোটা বংশীধরপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
