উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ইরান ও মার্কিন-ইজরায়েল জোটের লড়াই কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই (Iran Israel Battle) সীমাবদ্ধ নেই, তা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের পকেটে। ব্রোকারেজ ফার্ম ‘ম্যাকুরি’-র সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট বিশ্ববাসীকে রীতিমতো সতর্ক করে দিয়েছে। তাদের দাবি, এই যুদ্ধ যদি আগামী জুন মাস পর্যন্ত গড়ায় এবং হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait Disaster) বন্ধ থাকে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে (Crude Oil 200 {Dollars}) পৌঁছে যেতে পারে (Oil Value Hike)। এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ বলে মনে করছে সংস্থাটি।
চিনাদের বাধা ও তেলের ঊর্ধ্বগতি
গত ২৭ মার্চ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় চিনের দুটি জাহাজকে আটকে দেয় ইরান। এই ঘটনার পরেই বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক ধাক্কায় ২.৮২ শতাংশ বেড়ে ১১১.০৬ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, এই জলপথের একটি বড় অংশ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা এশিয়ামুখী তেলের ট্যাঙ্কারগুলিকে আটকে দিচ্ছে, যার ফলে এশীয় দেশগুলিতে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আশার আলো: ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি?
ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মাঝে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে ব্লুমবার্গ। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষেই যুদ্ধবিরতি ঘটার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা নরম মনোভাব দেখিয়ে আগামী ১০ দিনের জন্য ইরানের এনার্জি সেন্টারগুলিতে আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে বলে খবর।
অর্থনীতির ওপর প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত এই উত্তেজনা বজায় থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় মন্দা দেখা দিতে পারে। ভারত-সহ যে দেশগুলি আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে পেট্রোল-ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এখন গোটা বিশ্বের নজর ট্রাম্প ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনার দিকে— আদৌ কি খুলবে হরমুজ প্রণালীর জট?
