উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নেপাল সীমান্তে তিব্বত সংলগ্ন অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ আকস্মিক হড়পা বানে (Nepal Floods) লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ভোতে কোশী নদীর আকস্মিক জলস্ফীতি এবং সর্বনাশা স্রোতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯৫ জন মানুষ, আর নিখোঁজ রয়েছেন ৪ শতাধিক। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নড়েচড়ে বসেছে নয়াদিল্লিও। হিমালয়কোলের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে জরুরি মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা তথা HADR (Humanitarian Help and Catastrophe Reduction) সামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় জানিয়েছেন যে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) সি-১৩০জে (C-130J) বিমানে করে প্রায় ১০ টন ওজনের জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং জীবনদায়ী ওষুধ নেপালে পাঠানো হয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে নেপাল এবং তার জনগণের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে ভারত। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেদ্রে শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পুরো পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সমস্ত রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
উদ্বেগ বাড়ছে সীমান্ত এলাকাতেও। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সম্ভাব্য প্রভাব এড়াতে এবং উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পূর্ণ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেদ্র শাহ এই বিপর্যয়ের পর দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার এবং একজোট হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন। কাঠমান্ডুর প্রধান হাসপাতালগুলোতে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য বিশেষ বেড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এদিকে, তিব্বত ও নেপালের সংলগ্ন এলাকায় আটকে থাকা ভারতীয় পর্যটক ও নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকেও বিশেষ হেল্পলাইন ও জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

