উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত (Nepal Flash Flood Replace)। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ ছুঁইছুঁই। শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত সে দেশে ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। দুই দেশ মিলিয়ে এখনও নিখোঁজ ১,৪৬৮ জন। ধ্বংসস্তূপ, পুরু কাদা এবং সড়ক ও সেতু বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চরম প্রতিকূলতার মধ্যে উদ্ধারকাজ সামলাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ ভেঙে পড়ার পরই এই তাণ্ডব শুরু হয়। জল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের তীব্র স্রোত মধ্য নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আছড়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ১৩৭টি দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান থেকে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও নতুন আশঙ্কা
রাসুয়া ও নুয়াকোটের বহু এলাকা এখন কাদার স্তূপে চাপা পড়ে রয়েছে। বহু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত এবং একাধিক গ্রাম বহির্বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
- উদ্ধার অভিযান: নেপাল পুলিশ ও সেনাবাহিনী ড্রোন, হেলিকপ্টার ও স্থলপথে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১,৫00-র বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।
- নতুন বিপদ: ভোতে কোশি নদীর উৎসের কাছে জল জমে নতুন একটি ‘বেরিয়ার লেক’ বা অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হওয়ায় আবার নতুন করে বান ভাসনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
২৯০ জন ভারতীয় নিখোঁজ, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কেন্দ্র
এই বিপর্যয়ে আটকে পড়েছেন বহু ভারতীয়। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
ভারত সরকার ইতিমধ্য়েই উদ্ধারকাজ ও সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। এ পর্যন্ত ৮৪ জন ভারতীয়কে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে—যার মধ্যে ৬৩ জন ত্রিশূলী-১ বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী এবং ২১ জন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। তিব্বতের দিকে আটকে থাকা আরও ২০০ জন ভারতীয়ও উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলে সমস্ত ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ের ভারতীয় রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে জরুরি বৈঠক সেরেছেন এবং বিদেশ মন্ত্রক রাজ্য সরকার ও নেপাল প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

