রায়গঞ্জ: রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট কৃষ্ণ মৃত্তিকা নাথ। রাজ্যপালের হাত থেকে গোল্ড মেডেল নিয়েছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Courtroom) নির্দেশে ২০১৬ সালের বাতিল প্যানেলে নাম ছিল কৃষ্ণ মৃত্তিকার। চলতি বছর এপ্রিল মাসে আদালতের নির্দেশ শোনার পর ভীষণভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন তিনি। সেই কান্নার দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম নির্দেশে চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতেই কৃষ্ণ মৃত্তিকা বলেন, ‘এভাবে আর ঝুলে থাকতে ভালো লাগছে না। স্থায়ী সমাধান হলে ভালো হয়।’
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে খানিক স্বস্তিতে চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা। খানিক স্বস্তিতে রাজ্য সরকার ও এসএসসিও (SSC)। আগামী বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বেতন-সহ চাকরি করতে পারবেন ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা। অর্থাৎ আরও ৮ মাস সবেতন চাকরি করতে পারবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তবে এই খবরে খুশি নন শিক্ষিকা কৃষ্ণ মৃত্তিকা নাথ। বর্তমানে উনি কলকাতায় আছেন। আগামীকাল তাঁর ইন্টারভিউ। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছেন। এদিন সুপ্রিম নির্দেশ শোনার পর কলকাতা থেকে তিনি জানান, ‘এভাবে আর ঝুলে থাকতে ভালো লাগছে না। স্থায়ী সমাধান চাইছি। এই অবস্থায় থাকতে চাই না। যোগ্য শিক্ষক- শিক্ষিকাদের যথাযথ সম্মান দিক সরকার।’
উল্লেখ্য, রায়গঞ্জ শহরের (Raiganj) দেবীনগর কে সি আর বিদ্যাপীঠে ১০১৮ সালে মিউজিক শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দিয়েছিল কৃষ্ণ মৃত্তিকা নাথ। শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতেই সংসার। চাকরি যাওয়ার পর দিন-রাত এক করে শুধু পড়েই গিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষায় বসার পর পাশ করে ডাক পেয়েছেন ইন্টারভিউয়ে। তবুও একটা অনিশ্চয়তা যেন ঘিরে রয়েছে তাঁকে। এদিন সুপ্রিম নির্দেশের পর তাঁর বক্তব্য, ‘মামলায় মামলায় চাকরি জীবনটা শেষ হয়ে যাবে না তো?’
