উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার কাশ্মীরের মোস্ট-ওয়ান্টেড জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি (Jaish Terrorist Arrested)। বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে ধৃতকে পাকড়াও করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তবে সবথেকে বেশি চাঞ্চল্যকর এবং উদ্বেগের বিষয় হলো, ধৃত জঙ্গির কাছ থেকে রাজ্যের হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশকিছু গোপন নথি উদ্ধার হয়েছে। যার মধ্যে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি ও লোকেশন ট্র্যাক করার চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এই রাজ্যে বসে কি তবে বড় কোনো নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল?
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান শহরের অত্যন্ত পরিচিত ও ঘনবসতিপূর্ণ রেনেসাঁ হাউসিং (Renaissance Township) টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে হঠাৎই অভিযান চালায় এসটিএফ-এর একটি বিশেষ দল। সেখান থেকেই ওই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের নাম হামিদ মণ্ডল। এসটিএফ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এই হামিদ মণ্ডল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর অত্যন্ত সক্রিয় সদস্য। ধৃত এই ব্যক্তি, জইশ-ই-মহম্মদের অত্যন্ত কুখ্যাত জঙ্গি সাজ্জাদ ভাট, যে কিনা পুলওয়ামা আক্রমণের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত, তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ধৃত হামিদ মণ্ডল শুধু জইশ ই মহম্মদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একজন জঙ্গি তাই নয়, সাজ্জাদ ভাটের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ! প্রাথমিক তদন্তে এও জানা গিয়েছে যে, বর্ধমানে গ্রেফতারির আগে সে নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটেও কিছুদিন আত্মগোপন করে ঘাঁটি গেড়েছিল।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হামিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, ডিজিটাল গ্যাজেট এবং বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। তার কাছ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) লোকেশন, তাঁকে বিভিন্ন সময়ে ফলো করার নির্দেশিকা এবং বেশ কিছু মোবাইল চ্যাট ও রুট ম্যাপ উদ্ধার হয়েছে। রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থাকা একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা বলয় নিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য পুলিশ এবং গোয়েন্দা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন যে, এই জঙ্গি গোষ্ঠী রাজ্যজুড়ে কোনো স্লিপার সেল বা নাশকতার মডেল চালাচ্ছে কি না এবং সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না।
এদিন ধৃত হামিদ মণ্ডলকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে তোলা হয়। এসটিএফ সূত্রে খবর, তাকে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে তাকে কলকাতায় জেরা করে এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের শিকড় ঠিক কতদূর বিস্তৃত, তা বের করার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা। রাজ্যের মাটি ব্যবহার করে কোন কোন দেশবিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে, তা নিয়েও চলছে কঠোর অনুসন্ধান। বর্ধমান থেকে এই হাই-প্রোফাইল জঙ্গি গ্রেপ্তারের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দারা গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।

