প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: নেপালের (Nepal Flash Flood) বিপর্যয়ের পর থেকেই চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন বাঁকুড়ার (Bankura) ইন্দপুরের বাসিন্দা অশোক পালের পরিবার। যে এলাকায় এই হড়পা ও সেতু ভাঙার ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই একটি পাওয়ার প্রোজেক্টে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন অশোক পাল। ঘটনার পর থেকে তাঁর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে না পারায় উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছে আত্মীয়-পরিজনদের মধ্যে।
বাঁকুড়ার ইন্দপুর থানার মধুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা অশোক পাল কাজে না থাকলে বর্ধমানের (Burdwan) লাকুড্ডিতে তাঁর বোনের বাড়িতে থাকতেন। পেশাগত সূত্রে গত প্রায় দশ বছর ধরে নেপালের ওই পাওয়ার প্রোজেক্টেই কাজ করছিলেন তিনি। অশোকের বোন কবিতা দাস জানান, গত বুধবার সকাল ৮টা ২০ মিনিট নাগাদও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। কিন্তু এর ঠিক পরেই আচমকা নেমে আসা বিপর্যয়ে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেতু ভেঙে পড়ার ভিডিও ও ছবি দেখে পরিবারের আশঙ্কা আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে, কারণ ওই নির্দিষ্ট এলাকাতেই কর্মরত ছিলেন অশোক।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকের স্ত্রী তাঁদের দু’বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে বীরভূমের (Birbhum) মল্লারপুরে বাপের বাড়িতে থাকেন। একমাত্র উপার্জনকারী মানুষটির এমন আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার খবরে স্ত্রী ও শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। গত বছর ভাইফোঁটার পর নেপালে গিয়েছিলেন অশোক। এ বছর দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই তাঁর বর্ধমানে বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্তের আগেই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সব ওলটপালট করে দিল।
পরিবারের দাবি, ওই নির্দিষ্ট পাওয়ার প্রোজেক্টে আনুমানিক ৪০ জন কর্মী কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁদের কাউকেই ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে অশোকের সন্ধান পেতে এবং তাঁর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করতে রাজ্য ও কেন্দ্র প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে পরিবার। ইতিমধ্যে বর্ধমান থানার পুলিশ লাকুড্ডির বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমস্ত বিশদ তথ্য সংগ্রহ করেছে। প্রিয় মানুষটিকে সুস্থ শরীরে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় এখন কেবলই প্রহর গুনছেন তাঁর পরিজনেরা।

