উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নেপাল বিপর্যয়ে (Nepal Flash Flood) ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (Hydroelectric venture)। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে।
জানা গিয়েছে, নেপাল (Nepal) থেকে ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহ এক ধাক্কায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যেখানে সাধারণত প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হতো, তা কমে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪০০ মেগাওয়াটে। ভারত সরকারের গ্রিড ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ের দিন সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ও প্রায় ৯৬৩.৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছিল। তবে বিপর্যয়ে ভারতের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ১৪ মেগাওয়াটের দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সহ একাধিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি চিলমে ও ত্রিশূলী প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
নেপালের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের মোট উৎপাদিত প্রায় ৪৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সিংহভাগই জলবিদ্যুৎনির্ভর হওয়ায় এই ক্ষয়ক্ষতি দেশটির অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ চাহিদাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা। রাসুয়া জেলায় প্রায় ২৩৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার সচল প্ল্যান্ট এবং ৩৪২.৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার তিনটি নির্মাণাধীন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আপার ত্রিশূলী-১ (২১৬ মেগাওয়াট), রাসুয়াগধি (১১১ মেগাওয়াট), রাসুয়া ভোটেকোশী (১২০ মেগাওয়াট), এবং চিলমে (২২ মেগাওয়াট) প্রকল্প। অন্যদিকে, নুওয়াকোট জেলায় ১২৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার চারটি সচল প্ল্যান্ট এবং ৫২.৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি নির্মাণাধীন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ত্রিশূলী (২৪ মেগাওয়াট), দেবীঘাট (১৪.১ মেগাওয়াট) এবং আপার ত্রিশূলী-৩এ (৬০ মেগাওয়াট) প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।
উল্লেখ্য, নেপাল ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যুৎ বাণিজ্য মূলত ঋতুভিত্তিক। বর্ষাকালে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভারতে রপ্তানি করে নেপাল, আর শুষ্ক শীতের মরশুমে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে থাকে। বর্তমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যুৎ সরবরাহের এই স্বাভাবিক সমীকরণকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।

