উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে অনেক ক্ষেত্রেই ভারতীয় বাঙালিদের উপর অত্যাচার নেমে আসছে। গত কয়েক মাস ধরে মূলত বিজেপি শাসিত ওডিশা, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লির মতো রাজ্যগুলোতে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশি বিতারণ অভিযানে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের বৈধ বাসিন্দারা। যা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে পথে নেমেছে তৃণমূল। এবার এনিয়ে উদ্বিগ্ন আরএসএসও।
সূত্রের খবর আরএসএসের এক শীর্ষ পদাধিকারি এনিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সঙ্গে দেখা করেও বার্তা দিয়েছেন। আরএসএস মনে করছে অবৈধবাসীদের চিহ্নিত করার নামে ভারতের বৈধ বাসিন্দাদের নিগৃহীত করা একান্তই অনুচিত। আরএসএস মনে করে, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বন করতেই হবে তবে এটা করতে গিয়ে বাংলাভাষী বৈধ নাগরিকরা যেন অযথা সন্দেহ বা শত্রুতার শিকার না হন।
গত জুলাই মাসে, দিল্লির লোধি কলোনি পুলিশ স্টেশন দোভাষী চেয়ে বঙ্গভবনে চিঠি দিয়ে বাংলা ভাষাকে “বাংলাদেশি ভাষা” হিসেবে বর্ণনা করে। আরএসএস এই সরকারি ভুল চরিত্রায়নকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে জানিয়েছে। আরএসএস সূত্রের দাবি, “আমাদের নেতারা বিষয়টি নিয়ে অমিত শায়ের (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সঙ্গেও কথা বলেছেন।’
বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য যেখানে আগামী বছরই বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে সেখানে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার ঘটনা বিজেপির জন্য ‘আত্মঘাতী গোল’ হতে পারে বলে মনে করছে আরএসএস শীর্ষ নেতারা। সঙ্ঘের এক নেতা জানিয়েছেন, আরএসএস সমস্ত ভারতীয় ভাষাকে সমান মর্যাদা দিয়ে থাকে। কোনও ভাষার অবমাননা জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করবে।
তবে আরএসএস মনে করে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারগুলোর বাংলা থেকে যাওয়া মানুষদের হেনস্তা করার কোনও উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু একদম তৃণমূলস্তরে পুলিশকর্মীরা কাজ করার সময় ভাষাগত কারণে বিভ্রান্তির শিকার হন। যারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা যথাযথ নথিপত্র দেখাতে পারেন নি।
