মালদা: বুধবার সকালেই বাকি পাঁচজনের মতো মালদার (Malda) ইংরেজবাজারের (English Bazar) সেই পরিবারও খবরটা জেনে গিয়েছে। বারুইপুরের ধর্ষণ কাণ্ডে (Baruipur Incident) মূল অভিযুক্তর মৃত্যু হয়েছে পুলিশের এনকাউন্টারে। তবে তাঁদের মেয়েকে যে তরুণ নির্যাতন করেছে, তার এনকাউন্টার নয়, আইন অনুযায়ী বিচার আর তারপর ফাঁসির শাস্তি চাইছে সেই কিশোরীর পরিবার।
রাজ্যে যখন বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে, তখনই মালদার ইংরেজবাজার থানা এলাকায় অনেকটা একইরকমের একটি ঘটনা ঘটে। গত রবিবার ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে বাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালায় প্রতিবেশী তরুণ। তারপরই ক্ষিপ্ত জনতার রোষ আছড়ে পড়ে ওই বাড়িতে। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ বিহারের পূর্ণিয়া থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে সে পুলিশি হেপাজতে রয়েছে।
বুধবার এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, রোষের আঁচ একটুও কমেনি। তিন তিনটে বিয়ে, তারপরেও মেটেনি যৌন লালসা। তারই শিকার হতে হয়েছে ১২ বছরের ওই নাবালিকাকে। এমনকি এলাকার মহিলাদের দিকেও কুনজরে দেখত অভিযুক্ত। এমন দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিনই ঘটনাস্থলে যায় জলপাইগুড়ি ফরেন্সিকের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তাঁরা। ইউভি-রে ব্যবহার করে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করে ওই প্রতিনিধিদল। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের বাড়ি থেকে রক্তের নমুনা, বিছানার চাদর, একাধিক জামাকাপড় নিয়ে গিয়েছেন ফরেন্সিক দলের সদস্যরা।
অভিযুক্তের বাড়িতে পুলিশকে দেখে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ওই নাবালিকার বাবা। পুলিশের কাছে ধৃতের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘মেয়ে এখনও মালদা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর আমি এখনও মেয়েকে দেখতে পাইনি। ওর মা ওর সঙ্গে রয়েছে। স্ত্রীর কাছ থেকেই মেয়ের খবর নিচ্ছি।’ যৌন নির্যাতনের পর সেই কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। সে এখনও ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। শুধু মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিচ্ছে। খাবার বলতে শুধুমাত্র পুষ্টিকর পানীয় খাচ্ছে। মেয়ের বাবা বলেন, ‘ওই তরুণ আমার মেয়ের জীবন শেষ করে দিল। আমি ওর ফাঁসি চাই। প্রয়োজনে আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলব।’
ঘটনার দিন বাড়ির সামনেই কাপড় মেলতে এসেছিল ওই নাবালিকা। এদিন ওই জায়গাতেই কাপড় মেলতে এসে চোখ ছলছল করে উঠেছিল ওই নাবালিকার দিদির। তিনি বলছিলেন, ‘সদ্য আমার বিয়ে হয়েছে। আমি শ্বশুরবাড়িতেই ছিলাম। সেদিন বিকেলে ঘটনাটি জানতে পারি। তারপরেই বাড়ি ছুটে এসেছি। আমরা এখানেই কাপড় মেলি। সেদিন যদি আমি থাকতাম, হয়তো আমার সঙ্গেও এই ঘটনা ঘটতে পারত। আমরা ওই ছেলেটার ফাঁসি চাই।’
ঘটনার ধাক্কা সামলাতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও। এদিন অভিযুক্তের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ফরেন্সিক দলের কাজকর্ম দেখছিলেন এক মহিলা। তিনি বলছেন, ‘ওই মেয়েটা আমাদের বাড়িতে পড়তে আসত। অভিযুক্তকে মামা বলে ডাকত। ছেলেটা ভালো না সেটা আমরা জানতাম। কিন্তু এধরনের ঘটনা ঘটাবে কখনও ভাবতে পারিনি। ওর অত্যাচারে আগের বৌগুলো ওকে ছেড়ে চলে গিয়েছে।’
স্থানীয়রা জানালেন, প্রায় ১০ দিন আগে অভিযুক্তের তৃতীয় স্ত্রী দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তাই ওর স্ত্রী ও সন্তান বাবার বাড়িতে ছিল। বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়েই এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে। এলাকায় আতঙ্কও রয়েছে। এক বাসিন্দার কথায়, ‘আমার নাতনিকে ভয়ে বাড়ি থেকে একা ছাড়ছি না। বাড়ির কেউ না কেউ স্কুলে ছাড়তে যাচ্ছে।’

