উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ নেপালের বুকে নেমে আসা ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের (Nepal catastrophe lacking) প্রায় কুড়ি দিন অতিক্রান্ত হলেও এখনও এ রাজ্যের ৩৭ জন মানুষের কোনো খোঁজ মেলেনি। কাজের সুবাদে কিংবা পাহাড়ি সৌন্দর্যের টানে বেড়াতে গিয়ে এই দুর্যোগের মুখে পড়েন তাঁরা। আকস্মিক এই ঘটনায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন নিখোঁজদের পরিবারগুলো।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বুধবার নবান্নে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিজনদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কঠিন এই সময়ে পরিবারগুলোর পাশে থাকার পূর্ণ আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সাহায্য, কর্মসংস্থান এবং সন্তানদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাদের দৈনন্দিন নানা সংকট ও আইনি জটিলতার কথা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
নিখোঁজদের একটা বড় অংশই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। ফলে প্রধান রোজগেরে সদস্য নিখোঁজ থাকায় সরকারি পেনশন বা রান্নার গ্যাসের সংযোগের মতো পরিষেবাগুলো পেতে মারাত্মক সমস্যায় পড়ছেন পরিজনেরা। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, পুরো পরিস্থিতির ওপর রাজ্য সরকার কড়া নজর রাখছে এবং নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। পরিবারের প্রতিটি অভিযোগ নথিভুক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি, মৃত শংসাপত্র বা ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কাউকে নিখোঁজ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে সাত বছর পূর্ণ না হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা যায় না। তাছাড়া নেপাল সরকারের মাধ্যমে সার্টিফিকেট ইস্যু হয়ে কেন্দ্রের হাত ঘুরে রাজ্যে পৌঁছানোর দীর্ঘ প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের পর এই পরিবারগুলোকে কীভাবে সাহায্য করা যায়, সেই বিষয়ে তদ্বিরের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত নেতা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়ও, যাঁর স্ত্রীও নেপালে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। উদ্ধারকার্য নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, কেন্দ্রও এই বিষয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এবং রাজ্য সরকার কেন্দ্র ও নেপাল সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করছে। এ ছাড়া, কয়েকজন চিনে আটকে থাকতে পারেন— এমন সম্ভাব্য তথ্যের কথা শুভ্রাংশু জানালে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, রাজ্যের কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তথ্য পেলে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়।
পরিবারগুলোর আয়ের সংস্থান নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নিখোঁজ রং মিস্ত্রি মুজিবুর মোল্লার স্ত্রী সরবানু বিবিকে দ্রুত চাকরি দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়ার নিখোঁজ অশোক পালের স্ত্রী জবা পালকে নিজের অস্থায়ী সহকারী হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের সমর মণ্ডলের স্ত্রী গীতিকা সরকার মণ্ডল এবং শিলিগুড়ির একটি পরিবারকে নিজের এক মাসের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
নিখোঁজদের পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্বও রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানানো হয়েছে। পরিজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের স্বার্থে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং ইমেল পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘‘এই পরিবারগুলি একা নয়। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’’ অন্যদিকে, বসিরহাটের পোদ্দার পরিবারের উদ্ধার হওয়া সদস্যরা এদিন নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

