NEET Protest Kolkata | সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় স্বস্তি! নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদে ধর্মতলা সংঘর্ষের ঘটনায় ধৃত ১৬ জনকেই জামিন দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত

NEET Protest Kolkata | সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় স্বস্তি! নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদে ধর্মতলা সংঘর্ষের ঘটনায় ধৃত ১৬ জনকেই জামিন দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ নিট (NEET Protest Kolkata) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে ধর্মতলার বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জনকেই অবশেষে জামিন দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত। মঙ্গলবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে প্রথমে পুলিশের আর্জি মেনে বিচারক তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক তার পরেই সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ এবং রাজ্য সরকারের অবস্থানের পরিবর্তনের কথা সামনে আসতেই সম্পূর্ণ বদলে যায় আদালতের রায়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশকে সম্পূর্ণ মান্যতা দিয়ে ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক।

দেশজুড়ে নিট আন্দোলনের জেরে ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশি ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে সোমবারই কেন্দ্রকে অত্যন্ত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সমস্ত এফআইআর খারিজ এবং ধৃতদের অবিলম্বে মুক্তির যে প্রতিশ্রুতি এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং দিয়েছিলেন, সিজেপি তা কেন্দ্রীয় সরকারকে কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

এই চরমপত্রের পরেই নড়েচড়ে বসে বিভিন্ন রাজ্য। সবার প্রথমে বিহার সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে ধৃতদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়। এর ঠিক পরেই অসম সরকারও আন্দোলন ঘিরে সমস্ত মামলা তুলে নেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে, ১৮ বছরের কম বয়সী এবং অপরাধের কোনো পূর্ব রেকর্ড নেই—এমন সমস্ত আটক বা ধৃত ছাত্রছাত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে এই আন্দোলন সংক্রান্ত কোনো এফআইআরের ক্ষেত্রেই পুলিশ বা প্রশাসন কোনো জবরদস্তিমূলক বা কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত।

গত শুক্রবার নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতার ধর্মতলার একটি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে তীব্র বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছিল। উত্তপ্ত সেই মিছিলে তাণ্ডবের জেরে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীও আক্রান্ত হন এবং গুরুতর জখম হন। ওই ঘটনায় পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।

মঙ্গলবার ওই ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হলে প্রথমে পুলিশের তরফে তাদের ৩০ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতের আর্জি জানানো হয় এবং বিচারক তা মঞ্জুরও করেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের স্বস্তি দেওয়ার পথে হাঁটে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, ধর্মতলার ওই মিছিলে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি পাকানো হয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও ৭০ জন এমন বহিরাগত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের সঙ্গে আসল ছাত্র আন্দোলন বা সিজেপি-র দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো যোগ নেই। তবে আসল আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত মেনে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে রাজ্য সরকার মামলা প্রত্যাহারের পক্ষেই সায় দিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ বা সংবাদকর্মী নিগ্রহের মতো হিংসাত্মক ঘটনার জন্য যে পৃথক এফআইআর রুজু হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী যথারীতি জারি থাকবে বলেই প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *