রায়গঞ্জ: বসতবাড়ির জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর এবং তাঁকে অর্ধনগ্ন করে অকথ্য অত্যাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে (Land dispute violence)। এই ঘটনায় নির্যাতিতা বধূর পরিবারের পক্ষ থেকে ভাটোল ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে রায়গঞ্জ থানার অন্তর্গত ভাটোল ফাঁড়ির পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তার ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে রায়গঞ্জ থানার বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের বালিয়া গ্রামে বসতবাড়ির জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই বচসার সময়ই অভিযুক্ত প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম চড়াও হয় ওই বধূর ওপর। তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনকি ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক অর্ধনগ্ন করে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই পৈশাচিক নির্যাতনে গুরুতর জখম হন ওই বধূ। পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পরই ভাটোল ফাঁড়িতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) আইনের খুনের চেষ্টা সহ একাধিক কঠোর ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ধৃতকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের সরকারি আইনজীবী অতনু দাস জানান, “ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সমস্ত দিক বিবেচনা করে বিচারক ধৃতকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।” জমি সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে এই ধরনের বর্বরোচিত ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

