উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ কমনওয়েলথ গেমসের জ্যাভলিন থ্রো ফাইনালে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পরও সোনা অধরা রইল ভারতের জ্যাভলিন তারকা নীরজ চোপড়ার (Neeraj Chopra)। গ্লাসগোর ঠান্ডা ও প্রতিকূল আবহাওয়া এবং প্রবল বিপরীত হাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো তাঁকে। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে মাত্র একটি নিখুঁত থ্রো করেই সবাইকে চমকে দিয়ে সোনা জিতে নিলেন শ্রীলঙ্কার রুমেশ থরঙ্গা পাথিরাগে। তিনি ৮৯.৭৫ মিটার দূরে জ্যাভলিন ছুঁড়ে সেরার মুকুট পরেছেন। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য কামব্যাক করে ৮৫.৪১ মিটার ছুঁড়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন ভারতের অপর জ্যাভলিন খেলোয়াড় যশবীর সিং।
এ দিন গ্লাসগোর স্কটসটাউন স্টেডিয়ামের আবহাওয়া সম্পূর্ণ প্রতিকূল ছিল খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে। খোলা স্টেডিয়ামের চারদিক থেকে প্রবল হাওয়া দেওয়ার কারণে জ্যাভলিন ছুড়তে হচ্ছিল ঠিক হাওয়ার বিপরীত মুখে। ফলে ক্রীড়াবিদেরা তাঁদের চেনা ছন্দে দূরত্ব অর্জন করতে পারছিলেন না। তার ওপর হাড়কাঁপানো ঠান্ডার কারণে জ্যাভলিন ছোড়ার ঠিক পরেই প্রতিযোগীদের মোটা জ্যাকেট পরে নিতে দেখা যায়। ঠান্ডায় খোদ নীরজকেও কাঁপতে দেখা গেছে। ২০১৮ সালের পর দীর্ঘ বিরতির পর কমনওয়েলথে নেমেছিলেন নীরজ, যাঁর লক্ষ্য ছিল সোনা জয়।
ফাইনালে শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু হয়। নীরজের প্রথম থ্রো ছিল ৮০.৯৭ মিটার, যা প্রথমবারেই তাঁকে আত্মবিশ্বাস জোগায়। শ্রীলঙ্কার পাথিরাগের প্রথম থ্রো ফাউল হলেও তাঁর জ্যাভলিন প্রায় ৮৫ মিটারে গিয়ে পড়েছিল, যা থেকেই তাঁর শক্তির আন্দাজ পাওয়া গিয়েছিল।
দ্বিতীয় থ্রোতে ৮৫.৮৩ মিটার দূরে জ্যাভলিন ছুঁড়ে সোনা জয়ের দৌড়ে সবার শীর্ষে উঠে আসেন নীরজ। জ্যাভলিন হাত থেকে বেরনো মাত্রই তাঁর উল্লাস বুঝিয়ে দিয়েছিল বড় কিছু ঘটতে চলেছে। কিন্তু এর পরেই শ্রীলঙ্কার রুমেশ থরঙ্গা পাথিরাগে মাঠে নেমে সমস্ত হিসাব উল্টে দেন। তিনি তাঁর একটিমাত্র বৈধ থ্রোয়ে ৮৯.৭৫ মিটার দূরত্বে জ্যাভলিন পাঠিয়ে সোনা পাকা করে নেন। নীরজ এরপর আর সেই দূরত্ব টপকাতে পারেননি। তাঁর পরবর্তী থ্রোগুলি ছিল যথাক্রমে ৮১.২৯ মিটার এবং ৮০.৭৩ মিটার। শেষের দুটি থ্রোয়ে কাঙ্ক্ষিত দূরত্ব না পাওয়ায় নীরজ নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউল করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, পাথিরাগে তাঁর ছটি থ্রোয়ের মধ্যে একটি মাত্র থ্রো সফল করেন এবং বাকিগুলি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ফাউল করেন। ওই একটাই থ্রো তাঁর সোনা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
এই ফাইনালে জ্যাভলিনে ভারতের ভবিষ্যৎ যে অত্যন্ত উজ্জ্বল, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। কারণ প্রথম রাউন্ডের শেষে যে আটজন চূড়ান্ত রাউন্ডের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনজনই ছিলেন ভারতীয় (নীরজ চোপড়া, যশবীর সিংহ ও রোহিত যাদব)। অন্য কোনো দেশ থেকে ফাইনালে একজনের বেশি প্রতিযোগী ছিল না।
তৃতীয় থ্রোয়ে ৮১.৩৩ মিটার ছুঁড়ে প্রথম আটে জায়গা করে নেওয়া যশবীর সিংহ শেষ থ্রোয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ৮৫.৪১ মিটার ছুঁড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ডাউ স্মিটকে পেছনে ফেলে ব্রোঞ্জ পদক ছিনিয়ে নেন। অন্যদিকে, রোহিত যাদব প্রথম দিকে ৮১.৫৬ মিটার ছুঁড়লেও শেষ পর্যন্ত নিজের ফর্ম ধরে রাখতে পারেননি।
এ দিনের সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটাল অলিম্পিক্সে সোনাজয়ী পাকিস্তানের আর্শাদ নাদিমের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়া। শুরু থেকেই তাঁকে অত্যন্ত নড়বড়ে দেখছিল। তাঁর প্রথম থ্রো ফাউল হয় এবং দ্বিতীয় থ্রোয়ে তিনি মাত্র ৭৭.৪১ মিটার ও তৃতীয় থ্রোয়ে ৭৫.৩৯ মিটার ছুঁড়তে সক্ষম হন। ফাইনালে সেরা আটের লড়াইয়েও টিকতে না পেরে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

