হরিশ্চন্দ্রপুর: রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার হরিশ্চন্দ্রপুরে খোদ শাসকদলের বিদায়ী নেতাদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ সামনে এল (Malda TMC Chief Job Rip-off)। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে সুপারভাইজারের চাকরি দেওয়ার নাম করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে তৃণমূলের তিন নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হতেই গা ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্তরা।
অভিযুক্তরা হলেন মালিওর-১ অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ সুফিয়ান, প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ জলিল এবং সক্রিয় তৃণমূল নেতা তৈমুর রহমান। অভিযোগকারী তারিকুল ইসলামের দাবি, অভিযুক্তরা সকলেই এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তজমুল হোসেনের ভাইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে হরিশ্চন্দ্রপুরের অর্জুনা গ্রামের বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম তাঁর স্ত্রীর চাকরির জন্য জমি বিক্রি করে কয়েক দফায় মোট ৬ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। এই টাকা তৈমুর রহমানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল বলে দাবি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি মেলেনি। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রতারিত ব্যক্তিকে নানাভাবে ঘোরানো হয়। তারিকুল ইসলামের অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে মন্ত্রী তজমুল হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খান এবং ব্লক তৃণমূল সভাপতি তবারক হোসেনকে বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। উল্টে শাসকদলের ভয়ে তখন থানায় অভিযোগ করতে পারেননি তিনি। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই অবশেষে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী তজমুল হোসেন বলেন, “এগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। অঞ্চল সভাপতির সঙ্গে আমার ভাইয়ের দলীয় সূত্রে ঘনিষ্ঠতা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই নেতা কোনো অন্যায় করলে তার দায় আমার ভাইয়ের ওপর বর্তায় না। পুরো বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।”
অন্যদিকে, বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর জানান, “অভিযুক্ত ব্যক্তি এখন আর অঞ্চল সভাপতি পদে নেই, নির্বাচনের আগেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি মন্ত্রীর ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ বলে শুনেছি, এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।”
এই ঘটনা নিয়ে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক কিষাণ কেডিয়া তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “এতদিন রাজ্যে জঙ্গলরাজ চলছিল, তাই অন্যায় করেও তৃণমূলের লোকেরা পার পেয়ে যাচ্ছিল। এখন আর সেটা হবে না। রাজ্যের সব জায়গাতেই জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের মতো দুর্নীতিবাজেরা ছড়িয়ে রয়েছে। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক।”
