উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দলের হুইল ঘুরে যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া ঝুললেও সাংসদ পদ খারিজের নোটিসের জবাব দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আরও খানিকটা সময় চেয়ে আবেদন করলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদীয় রাজনীতির অন্দরে খবর, আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধির অনুরোধ জানাতে চলেছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে চলা এই আইনি লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতেই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের জবাব তলব করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ঠিক পরেই। জোড়াফুল প্রতীকে জয়ী হয়েও রাতারাতি রাজনৈতিক অবস্থান বদলে ফেলেন ২০ জন সাংসদ। তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে তাঁরা সরাসরি ভিড়ে যান এনডিএ শিবিরে। শুধু তাই নয়, নিজেদের পৃথক অস্তিত্ব ঘোষণা করে তারা নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (NCPI) সঙ্গে যুক্ত হন। এই দলবদলকে ঘিরেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়।
বিদ্রোহী এই সাংসদদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে পিছপা হননি ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে এই ২০ জনের সাংসদপদ খারিজের আবেদন জানিয়ে পিটিশন দাখিল করেন। তবে স্পিকারের তরফে প্রয়োজনীয় সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হন অভিষেক। বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ পুরো বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত সাংসদদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেয়।
আদালতের নির্দেশের পর স্পিকারের সচিবালয় থেকে নোটিস পাঠানো হলেও নির্দিষ্ট দিনে জবাব দিতে পারেননি অভিযুক্তরা। এর আগে তিন সপ্তাহের বাড়তি সময় চাওয়া হলেও সেই মেয়াদ ফুরিয়ে আসে। ২২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের অফিস থেকে স্পষ্ট জানানো হয় যে, আজকের মধ্যে অর্থাৎ ৮ অক্টোবরের মধ্যেই লিখিত জবাব পেশ করতে হবে। তবে নির্ধারিত দিন আসার আগেই সুদীপের সঙ্গে স্পিকারের ফোনে কথা হয় এবং ইমেল মারফত আরও দুসপ্তাহের সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়। আজকের এই পরিস্থিতিতে এনসিপিআই-এর অন্দরে অন্যান্য সাংসদদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন সুদীপ। এই বৈঠকের পরই দলের পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক কৌশল স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

