শিলিগুড়ি: সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবায় দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে প্রোথিত, তার আরও এক নজির মিলল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (NBMCH)। ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহের ভিসেরা (Viscera) রিপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার জন্য সরাসরি উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগে রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা বা এসিবি (Anti-Corruption Bureau)-র হাতে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হলেন হাসপাতালের এক ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট। ধৃতের নাম বাবলু মল্লিক। রাসায়নিক মিশ্রিত ঘুষের নোট হাতবদলের ক্লাইম্যাক্স মুহূর্তেই গোয়েন্দাদের পাতা ফাঁদে ধরা পড়েন তিনি।
নকশালবাড়ি থানার একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের খাতিরে ভিসেরা রিপোর্টের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। অভিযোগ, সেই গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট তুলে দেওয়ার শর্তে ৩ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন ওই ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট। এরপর ওই ব্যক্তি সরাসরি রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার দ্বারস্থ হন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বৃহস্পতিবার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশেষ ছক কষে এসিবি। অভিযোগকারীর হাত দিয়ে কেমিক্যাল বা বিশেষ রাসায়নিক মাখানো টাকা পাঠানো হয় মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে। টাকা হাতবদল হওয়ামাত্রই সেখানে ওৎ পেতে থাকা এসিবি আধিকারিকরা ঘিরে ধরেন বাবলু মল্লিককে। এরপর প্রথামাফিক তাঁর হাত জলে ডোবাতেই জলের রঙ মুহূর্তের মধ্যে নীল হয়ে যায়—যা রাসায়নিক মিশ্রিত নোট নেওয়ার অকাট্য ও চাক্ষুষ প্রমাণ। হাতেনাতে প্রমাণ মেলার পর আর কালবিলম্ব না করে তাঁকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরাসরি কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় চলছে। পাশাপাশি বিভাগের অন্য আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
কিছুদিন আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের এক কর্মী রক্ত বা ব্লাড ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে এসিবি-র হাতে ধরা পড়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খাস উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট নিয়ে দুর্নীতির এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। একের পর এক সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাধারণ মানুষের অসহায়তাকে পুঁজি করে এই ধরনের তোলাবাজি ও উৎকোচের সংস্কৃতি প্রশাসনের অন্দরে বড়সড়ো প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। চিকিৎসালয়ের মতো সংবেদনশীল পরিসরে এই ধরনের দুর্নীতি দমনে আগামীদিনে আরও বড় কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

