উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা এবং বিরোধী দলের ওপর পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগে শাসক দল বিজেপি (BJP) ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে চরম আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফেসবুক লাইভে এসে তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে গণতন্ত্র আজ বিপন্ন, গ্রাম থেকে শহরজুড়ে পুলিশ ও গেরুয়া শিবিরের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালাচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা করে মমতা বলেন, বাংলার অস্তিত্ব আজ সংকটে। যাঁরাই সরকারের পক্ষে থাকছেন না, সংবাদমাধ্যমের অফিসে পর্যন্ত গিয়ে গেরুয়া রং করা হচ্ছে। এমনকি সরকারি অনুষ্ঠানেও এখন নির্দিষ্ট রংয়ের কার্পেট ব্যবহার করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেখানে অনুপস্থিত, সেখানে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার বিপন্ন হতে বাধ্য।
রাজ্য পুলিশের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশ এখন এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন তারা ভাজা মাছটি উলটে খেতে জানে না! তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেই সমর্থকদের চরম পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই নিরপরাধ মানুষকে বেআইনিভাবে ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে আটক করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
বিশেষ করে বারুইপুর এবং কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ঢুকে কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি লুটপাট করা হয়েছে। দলের চারজনকে ভেতরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। মাত্র কয়েক গজ দূরে শেক্সপিয়র সরণি থানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ হয় নিষ্ক্রিয় থেকেছে, নয়তো তাদের মদতেই এই সমস্ত ঘটনা ঘটেছে। বারুইপুর কাণ্ডে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে পুলিশ ফাঁড়ির নামে কার্যত গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন তিনি।
প্রশাসনের এই অতি-সক্রিয় অংশের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, যাঁরা এই অন্যায় কাজ করছেন, তাঁদের নাম ডায়েরিতে লিখে রাখা হচ্ছে। সময় কোনোদিনই এক থাকে না, বিজেপি সরকারও চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতার পালাবদল হলে এই অন্যায়ের হিসাব দিতেই হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) সঙ্গে নাম না করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (CM Suvendu Adhikari) খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “ফটোশুট নরেন্দ্র মোদিকে মানায়, কিন্তু এখানকার যিনি দায়িত্বে আছেন, তাঁকে একদম মানায় না!” মমতার সংযোজন, যারা আজ অন্যের দল ভাঙছে, তাদের মনে রাখা উচিত – একদিন তাঁদেরও একই পরিণতি ভুগতে হবে এবং তাঁদের দলও একদিন ভেঙে টুকরো হয়ে যাবে।

