রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: আরজি কর কাণ্ডের পরে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (NBMCH) নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করতে স্বাস্থ্য ভবন সিসি ক্যামেরা বসানোর বরাত দিয়েছিল। অভিযোগ, সেই টাকায় টেন্ডার করে কাজের বরাত দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসিয়ে প্রমাণ রাখার জন্য ছবি তুলেই আবার ওই ক্যামেরাগুলি খুলে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মেডিকেলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডাঃ সঞ্জয় মল্লিকের বক্তব্য, ‘টেন্ডার হয়ে থাকলে নিশ্চয়ই কাজ হয়েছে। আমার যতদূর মনে আছে পাঁচ লক্ষ টাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল।’
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন প্রকল্পে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে ওষুধ কেনা থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিসপত্র কেনা, ঠিকাকর্মীদের মজুরি থেকে নতুন নতুন ভবন নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের আবাসনগুলির সংস্কারের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থবরাদ্দে অভিযোগ রয়েছে।
আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (R G Kar Medical School & Hospital) তরুণী চিকিৎসকের হত্যাকাণ্ডের পর রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মেডিকেলের নিরাপত্তার দাবিতে চিকিৎসকরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। লাগাতার আন্দোলনের জেরে দীর্ঘদিন হাসপাতালগুলির চিকিত্সা পরিষেবা এবং কলেজের পঠনপাঠন বিঘ্নিত হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, এই আন্দোলনের পরেই উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জন্য স্বাস্থ্য ভবন নয় লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল। বরাদ্দ আসার পর এখানে সেই টাকায় টেন্ডারও করা হয়। ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এই টেন্ডার হয়েছিল। টেন্ডার অনুযায়ী অন্তত ২৫টি ক্যামেরা বসার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই সিসি ক্যামেরার কোনও হদিস নেই বলে মেডিকেল সূত্রের দাবি। সুপার অফিস সূত্রের খবর, ওই টাকায় টেন্ডার হয়েছিল। একটি সংস্থাকে ওয়ার্ক অর্ডারও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার মেডিকেলে গিয়ে দেখা গেল সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জন্য কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে বেশকিছু স্ট্যান্ডপোস্ট বসানো রয়েছে। সেখানে ক্যামেরা বসানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে, এমনকি সংযোগকারী কেবলও টানা রয়েছে। কিন্তু সেখানে ক্যামেরা নেই। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবি, বজ্রবিদ্যুতে কিছু ক্যামেরা নষ্ট হয়েছে। সেগুলি মেরামতির জন্য পাঠানো হয়েছে। ক্যামেরা বসানোর নামে দুর্নীতির অভিযোগ তিনি মানতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, ‘সম্ভবত পাঁচ লক্ষ টাকায় টেন্ডার করে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল।’
