বুলনম দাস, নয়ারহাট: কঠিন লড়াই ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে সাফল্য কখনই অধরা থাকে না। কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা দিয়ে সেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেন মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের নয়ারহাটের (Nayarhat) আব্দুল হালিম। ইউজিসির নেট পরীক্ষায় জেআরএফ সহ বাংলা বিষয়ে ১০০ পার্সেন্টাইল স্কোর করে তাক লাগালেন বছর ৩০-এর এই তরুণ। জুন ২০২৬ নেটে বাংলা বিষয়ে জাতীয় স্তরে তাঁর স্থান সম্ভাব্য প্রথম। কৃষক পরিবারের সন্তান হালিমের এই জোড়া সাফল্যে পুরো এলাকায় এখন বইছে খুশির হাওয়া।
শনিবার নয়ারহাট বাজার থেকে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে হালিমকে বরণ করে পানিগ্রামে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি তাঁকে বিশেষ সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। শীতলকুচির বিধায়ক সাবিত্রী বর্মনও এদিন হালিমের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানান।
মিশনে শিক্ষকতার জন্য হালিম কিছুদিন ধরে জলপাইগুড়িতেই রয়েছেন। শুক্রবার রাতে ফল প্রকাশের পরই শনিবার সকালেই বাড়িতে ফেরেন তিনি। এলাকাবাসীর উষ্ণ সংবর্ধনায় আপ্লুত হালিম বলেন, ‘এর আগেও সাতবার নেট পাশ করেছি। কিন্তু সামান্য নম্বরের ব্যবধানে জেআরএফ পাইনি। এই নিয়ে আক্ষেপ ছিল। কিন্তু এবার জেআরএফ সহ বাংলা বিষয়ে ১ নম্বর স্থান দখল করায় আমি ভীষণ খুশি।’
এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন সহ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের অবদানের কথা তিনি জানান। গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকতার পেশায় যোগদান করাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় বাসিন্দা সাঈদ হাসান প্রধানের বক্তব্য, ‘আব্দুল হালিমের সাফল্যে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। তাঁকে দেখে এলাকার অনেক পড়ুয়াই অনুপ্রেরণা পাবে।’ এলাকার বিজেপি নেতারাও এদিন হালিমকে শুভেচ্ছা জানান। বিজেপি নেতা বিপিন বর্মন বলছেন, ‘আব্দুল হালিমের মতো পড়ুয়ারাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। তাঁরা অনুপ্রেরণার যোগ্য।’
মেধাবী এই তরুণের সাফল্যকে ঘিরে পুরো নয়ারহাটজুড়েই এখন আনন্দের মেজাজ। এখন সরকারি বৃত্তি নিয়ে উচ্চতর গবেষণার পাশাপাশি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কলেজে যোগদানের পথ তাঁর সামনে সম্পূর্ণ প্রশস্ত হল।

