উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শনিবার রাতে হোয়াইট হাউসের (White Home) ঠিক বাইরে সিক্রেট সার্ভিস চেকপয়েন্টে আকস্মিক এক গুলিবর্ষণের ঘটনায় থমকে গেল ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা পরিবেশ। সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ওপর আচমকা গুলি চালাতে গিয়ে পালটা গুলিতে নিহত হয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক বন্দুকবাজ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণের নাম নাসিরে বেস্ট (Nasire Greatest)। তিনি আমেরিকার মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা ছিলেন।
তদন্তকারীরা এবং আদালতের নথিপত্র থেকে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরেই তীব্র মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিরে। ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মানসিক অস্থিরতার কারণেই নাসিরে নিজেকে আধুনিক যুগের ‘যীশু খ্রিস্ট’ বলে প্রচার ও দাবি করতেন। এই অদ্ভুত মানসিক ভাবনার জেরে তাঁর আচরণ দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল।
এর আগেও একাধিকবার হোয়াইট হাউসে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন নাসিরে। ২০২৫ সালের ২৬ জুন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে আটকও করেছিল পুলিশ, যদিও পরে তিনি ছাড়া পেয়ে যান। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারি এবং অগস্ট মাসেও তিনি হোয়াইট হাউসের সীমানায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালান। ক্রমাগত এই ধরনের আচরণের জন্য আদালতের তরফ থেকে নাসিরেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবনের ত্রিসীমানায় পা না দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ মানেননি।
পুলিশ ও সিক্রেট সার্ভিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ১৭তম স্ট্রিট নর্থওয়েস্ট এবং পেনসিলভেনিয়া অ্যাভেনিউয়ের কাছে হোয়াইট হাউসের সিক্রেট সার্ভিস চেকপয়েন্টের সামনে উদ্দেশ্যহীন ও অস্বাভাবিকভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন নাসিরে। নিরাপত্তা রক্ষীরা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এগিয়ে যান। ঠিক তখনই আচমকা ব্যাগ থেকে বন্দুক বের করে সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন নাসিরে।
নিরাপত্তারক্ষীরাও মুহূর্তের মধ্যে অবস্থান নিয়ে পালটা গুলি চালান। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ওই তরুণ। তাঁকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে এই গোলাগুলির মাঝে পড়ে গুরুতর জখম হয়েছেন এক পথচারীও। তাঁর অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময়ে হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। গুলির শব্দ পেয়ে তাঁরা যখন ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের আটকে দেন। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এক সাংবাদিক জানান, ঘটনার পরপরই তাঁদের সুরক্ষার স্বার্থে প্রেস ব্রিফিং রুমে লুকিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কানাডা থেকে আসা এক পর্যটক রিড অ্যাড্রিয়ান তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম বাজি ফাটছে। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝলাম ওটা গুলির লড়াই ছিল।”
হুলুস্থুল কাণ্ড চলাকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ছিলেন। জানা গিয়েছে, সেই সময়ে তিনি ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে শীর্ষ পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। গুলির শব্দ শোনা গেলেও প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ছিলেন এবং তাঁর কোনও ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল না বলে নিশ্চিত করেছে সিক্রেট সার্ভিস।
ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে এফবিআই (FBI)। সংস্থার ডিরেক্টর কাশ প্যাটেল একটি পোস্টে জানিয়েছেন, “হোয়াইট হাউসের কাছে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এফবিআই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে আমাদের টিম সতর্ক রয়েছে এবং সিক্রেট সার্ভিসকে সবরকম সহায়তা করা হচ্ছে। দ্রুত সমস্ত আপডেট জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
আপাতত তৎক্ষণাৎ বিপদ কেটে গেলেও, এই হামলার পেছনে নাসিরের একাংশ নাকি অন্য কারও উস্কানি বা যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
