নাগরাকাটা: বিকেলে আচমকা নেমে আসা প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে নাগরাকাটার (Nagrakata) সুলকাপাড়া (Sulkapara) গ্রাম পঞ্চায়েতের খয়েরবাড়ি এলাকার যমুনাবুড়ি মোড় চত্বরে। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ বজ্রাঘাতে ৩৮ বছর বয়সি সিরাজুল হক নামে এক মোষ পালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই একই দুর্ঘটনায় তাঁর ৩০ বছর বয়সি স্ত্রী মুন্নি পারভিন গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। শুধু তাই নয়, বজ্রপাতের এই আকস্মিক কোপে সিরাজুলের চারটি মোষেরও ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পেশায় মোষ পালক সিরাজুল প্রতিদিনের মতো এদিন সকালেও তাঁর স্ত্রী মুন্নিকে সঙ্গে নিয়ে খামারবাড়ি সংলগ্ন জলঢাকা নদীর তীরবর্তী এলাকায় পশুগুলিকে বেঁধে রেখে এসেছিলেন। পরবর্তীতে বিকেলে নির্ধারিত সময়ে সেই মোষগুলি বাড়িতে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যেই স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে পৌঁছান। যখন তাঁরা মোষের গলার দড়ি খুলে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সিরাজুলের শরীরে প্রবল বেগে বাজ পড়ে। তীব্র সেই বৈদ্যুতিক আঘাতে সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর স্ত্রী মুন্নিও দূরে ছিটকে পড়েন।
এদিকে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও স্বামী-স্ত্রী দুজনে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজনের মনে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা তখন সিরাজুলের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও রিং বাজতে থাকলেও ওপাশ থেকে কোনো সাড়া মিলছিল না। এরপর আর কালবিলম্ব না করে পরিবারের লোকজন সরাসরি ওই এলাকার দিকে ছুটে যান এবং স্থানীয় প্রতিবেশীদের নিঃস্বার্থ সহায়তায় ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে দ্রুত সুলকাপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সিরাজুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুন্নি পারভিনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সঙ্গে সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য মালবাজার সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার প্রচুর সাধারণ মানুষ ও শুভানুধ্যায়ীরা হাসপাতালে ভিড় জমান। প্রিয় ভাইয়ের এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুর খবর পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মৃতের তিন দাদা বাবলু হক, নুর আলম এবং তহিদুল হক। বাধ্য হয়ে তাঁদেরও সুলকাপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালেই ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়। মৃতের আত্মীয় মকলেশার রহমান ও নুর ইসলাম গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানান যে যখন এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন আকাশে ভারী বৃষ্টিও হচ্ছিল না, একেবারে অতর্কিতে এই বজ্রাঘাত ঘটে সর্বস্ব কেড়ে নিল। উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আকস্মিক প্রয়াণে এই পরিবারটি এখন সম্পূর্ণভাবে অথৈ জলে এসে পড়েছে।

