সিকিমে ভয়াবহ ভূমিধসে উধাও সেতু, হড়পা বানে বিধ্বস্ত আইসিডিএস সেন্টার!

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সিকিমের একাধিক জেলায় ভয়াবহ ভূমিধস। সিঙ্গলিটামের ৭টি পরিবারের মোট ১২৮ জন সদস্যকে ত্রাণ শিবিরে তুলে আনা হয়েছে। রিম্বি আইসিডিএস কেন্দ্র হড়পা বানে ভেসেছে। অবরুদ্ধ একাধিক সড়ক, ভেসে গিয়েছে সেতু। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কেও পাথর গড়িয়ে নামছে। সিকিম প্রশাসনের তরফে ভূমিধস প্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর থেকে ভারী বৃষ্টির জেরে সিকিমের বিভিন্ন প্রান্তে ভূমিধসের বিপর্যয় বেড়েই চলেছে। সোমবার ও মঙ্গলবার পশ্চিম সিকিমের কর্মাতার ও আপার বুলুং এলাকায় ভূমিধস নামে। কর্মাতার গ্রামের একটি স্কুলের নিচে ওই বিপর্যয় ঘটে। সেখানে সশস্ত্র সীমা বলের জওয়ানরা বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়। আপার বুলুংয়ে ভূমিধসের জেরে অবরুদ্ধ হয়েছে সড়ক। এর আগে দক্ষিণ সিকিমের গাংলাও লোয়ার সাংমো এবং উত্তর সিকিমের চুংথাং ও থিং-এর কিছু অংশে ভূমিধস হয়। ফলে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন:

Bridge swept away in massive landslide in Sikkim, ICDS centre devastated by flash flood
মাটি ধসে ঝুলছে বাড়ি। ছবি-সংগৃহীত

ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পশ্চিম সিকিমের গ্যালশিং জেলার সিঙ্গলিটাম ও রিম্বি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যে রিম্বিতে ২৮টি বাড়ির ১২৮ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রাস্তা মেরামত, ত্রাণ ও নিরাপত্তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সিকিম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। গ্যালশিংয়ের জেলাশাসক তেনজিং দেনজংপা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এবং সরকারি সম্পত্তি ও পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নিয়মিতভাবে সিঙ্গলিটাম ও রিম্বি এলাকায় যাচ্ছেন। তিনি জানান, সিঙ্গলিটামে ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি পরিবারের সদস্যদের একটি ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে। সেখানে এখন বয়স্ক ও শিশু-সহ ৩৩ জনেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

জেলা প্রশাসন তাঁদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করছে। রিম্বিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে চারটি পরিবারের ১৮ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাদের আত্মীয়দের বাড়িতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সোমবার ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে হড়পা বান হয় রিম্বিতে। ওই কারণে এলাকার বাকি বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এখানেও অবরুদ্ধ হয়েছে সড়ক। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে সড়ক ও সেতু বিভাগ ধ্বংসস্তূপ অপসারণ ও রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ‘মন্দির পয়েন্ট’-এর আশেপাশের এলাকাটি ভূমিধসের কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

Bridge swept away in massive landslide in Sikkim, ICDS centre devastated by flash flood
হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে রাস্তা। ছনি-সংগৃহীত

রিম্বির নিচের এলাকাটি ভূমিধসের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ওই কারণে প্রশাসনের তরফে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের ভারী বৃষ্টিপাতের সময় নির্দেশ পাওয়া মাত্র নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ‘নিক খোলসা’ ঝোরার পাশে ভূমিধসের ফলে পাথর-মাটির স্তূপ জমেছে। বৃষ্টির জল এই ধ্বংসস্তূপ নিচের দিকে রিম্বি গ্রামে বয়ে নিয়ে যেতে শুরু করায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের সময় জল ও ধ্বংসস্তূপের প্রবল স্রোত ইতিমধ্যে রিম্বির সেতু ভাসিয়েছে। রিম্বি আইসিডিএস কেন্দ্রটি সোমবার হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে ভূমিধসের জেরে উত্তর সিকিমের আপার জংগুর লিওক কিয়ং এলাকায় লিংডেম-লাভেন সড়ক অবরুদ্ধ হয়েছে। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল বারডাং এলাকায় পাথর, মাটি গড়িয়ে নামছে। যাত্রীদের চলাচলের জন্য সড়কটি নিরাপদ ও সচল রাখতে এনএইচআইডিসিএল-এর কর্মীরা প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সড়কটি ওয়ান ওয়ে করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *