উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর এবার সঙ্গীতজগতের একাংশ সরব হলেন প্রাক্তন সরকারের সময়কার বঞ্চনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে গিয়ে ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা মুখোপাধ্যায়-সহ একঝাঁক সঙ্গীতশিল্পী তাঁদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন (Musicians meet Suvendu)। তাঁদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে সঙ্গীতজগতে ‘সিন্ডিকেটরাজ’ চলত এবং প্রাক্তন তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ‘লবি’-র বাইরের শিল্পীরা সরকারি অনুষ্ঠানে ব্রাত্য ছিলেন।
ঋদ্ধি ও দোলারা অভিযোগ করেন, আগের সরকারের জমানায় শিল্পীদের অনুষ্ঠানে সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ‘কাটমানি’ নেওয়া হতো। রাজনৈতিক আনুগত্য না থাকায় বহু যোগ্য শিল্পী সরকারি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনের সুযোগ পাননি। এমনকি, এ রাজ্যের শিল্পীদের বঞ্চিত করে বাংলাদেশ বা অন্য দেশের শিল্পীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁদের দাবি। নতুন সরকারের কাছে তাঁরা যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ ও ন্যায়বিচারের আর্জি জানিয়েছেন।
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বলেন, “বিগত ১৫ বছর ধরে হাজার হাজার শিল্পী পারফর্ম করেছেন। আমার বিরুদ্ধে ওঠা কাটমানির অভিযোগ ভিত্তিহীন। যে কোনো একজন শিল্পী তথ্য দিয়ে প্রমাণ করুন যে, আমি কারোর থেকে পাঁচ টাকার মিষ্টিও খেয়েছি। এমনটা হলে প্রশাসন যে পদক্ষেপই করবে, আমি তা মাথা পেতে নেব।” তাঁর কথায়, অভিযোগের মধ্যে রাজনৈতিক রং লাগানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
এদিন শিল্পীদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষও মুখ্যমন্ত্রীর জনতা দরবারে ভিড় করেছিলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি, উত্তর ২৪ পরগনার রহড়া এবং কাকদ্বীপ থেকে আসা মানুষেরা নির্বাচন পরবর্তী অশান্তিতে হারানো প্রিয়জনদের বিচার এবং চিকিৎসার সহায়তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। দীর্ঘদিনের অসুস্থ ভোলানাথ শী-এর মতো অনেকেই সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।
সরকার পরিবর্তনের পর এ ধরনের জনতার দরবারে সাধারণ মানুষ ও শিল্পীদের এই ভিড় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, এই অভিযোগ ও আবেদনগুলোর প্রেক্ষিতে নতুন সরকার কী ভূমিকা গ্রহণ করে।
