উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুম্বইয়ে (Mumbai) পা রেখেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। তবে বর্ষার আগমনী বার্তা বয়ে আনল এক চরম দুর্ভোগ। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম ভারী বর্ষণে (Heavy Monsoon Rains) বুধবার সকাল থেকেই কার্যত জলমগ্ন (Waterlogging) হয়ে পড়েছে দেশের আর্থিক রাজধানী। প্রবল বৃষ্টির জেরে শহরজুড়ে জারি করা হয়েছে সতর্কতা।
আবহাওয়া দপ্তর (IMD) সূত্রে খবর, মঙ্গলবার মুম্বইয়ে বর্ষার প্রবেশ ঘটেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ১৩ দিন বিলম্বে। বর্ষা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই বুধবার ভোর চারটা নাগাদ মুম্বই ও পালঘরের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়। পূর্বাভাস ছিল প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় ও অতি ভারীবৃষ্টির। পরবর্তীতে সকাল সাতটা নাগাদ সেই সতর্কতাকে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’-এ নামিয়ে আনা হয়। মুম্বই ছাড়াও থানে, রায়গড় ও সিন্ধুদুর্গের মতো জেলাগুলিতেও মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বইয়ে ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC)। আইএমডি-র মানদণ্ড অনুযায়ী, ২০৪.৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতকে ‘অত্যন্ত ভারী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই অতি বৃষ্টির জেরে কিং’স সার্কেল, দাদরের হিন্দু কলোনি এবং আন্ধেরি সাবওয়ের মতো নীচু এলাকাগুলিতে হাঁটু সমান জল জমেছে। আন্ধেরি সাবওয়েতে জল জমার কারণে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভিখরোলি পশ্চিমে একটি বহুতলের পাশের রিটেইনিং ওয়াল ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে, এত ভারী বৃষ্টির মধ্যেও শহরের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেন পরিষেবা এবং বিএসটি বাস পরিষেবা সচল রয়েছে বলে দাবি করেছে বিএমসি। সবকটি প্রধান সাবওয়ে খোলা থাকলেও যানজটের কবলে পড়েছে মুম্বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি। শহরজুড়ে এই জলমগ্ন পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে দায়বদ্ধতার টানাপোড়েন।
উল্লেখ্য, মুম্বইতে বর্ষা আসার স্বাভাবিক তারিখ হল ১০ জুন। তবে ২০২৩ সালে ২৫ জুন মুম্বইয়ে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। কিন্তু ১৯৭৪ এবং ১৯৫৮ সালে ২৮ জুন বর্ষা আসাই ছিল মুম্বইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে দেরিতে বর্ষার প্রবেশের রেকর্ড। আপাতত ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির হাত থেকে মুম্বইবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

